অধ্যাপক রেজাউল হত্যাকাণ্ড

তিন মাসেও অভিযোগপত্র দিতে পারেনি পুলিশ

রাবি প্রতিনিধি
২৩ জুলাই ২০১৬, ১৭:০৫আপডেট : ২৩ জুলাই ২০১৬, ১৭:০৫

রাবি শিক্ষক রেজাউল হত্যাকাণ্ড রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যার পরদিন ২৪ এপ্রিল মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের ওপর ন্যস্ত করা হয়। এরপর হত্যার ২১ দিনের মাথায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে খুনীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের আশ্বাস দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের মহাপরিদর্শক। কিন্তু হত্যার তিন মাসেও অভিযোগপত্র জমা দিতে পারেনি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

জানতে চাইলে রাজশাহী মহানগর ডিবি পুলিশের পরিদর্শক রেজাউস সাদিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তদন্তে ভালো অগ্রগতি হয়েছে। উপযুক্ত সময় হলেই অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে।’ এরচেয়ে বেশি কিছু বলতে রাজি হননি তিনি। তবে হত্যার মোটিভ সম্পর্কে বলেন, ‘তিনি মুক্তমনা ছিলেন তাই জেএমবিরা তাকে হত্যা করেছে।’

এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

গত ২৩ এপ্রিল অধ্যাপক রেজাউলকে নিজ বাসার পাশেই গলাকেটে হত্যা করা হয়। ওই দিন বিকেলে অধ্যাপকের ছেলে রিয়াসাত ইমতিয়াজ সৌরভ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে নগরীর বোয়ালিয়া থানায় মামলা করেন। পরদিন ২৪ এপ্রিল মামলা ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। এরপর বিভিন্ন সময় এই ঘটনায় জেএমবি (জামায়াতে মুজাহিদীন বাংলাদেশ) সদস্যরা সরাসরি জড়িত বলে মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের জানানো হয়। এ পর্যন্ত জড়িত সন্দেহে ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এদের মধ্যে হাফিজুর রহমান নামে এক শিবিরকর্মী পুলিশ হেফাজতে ‘অসুস্থ’ হয়ে মারা গেছেন। এছাড়া গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে গত ২২ মে আব্দুস সাত্তার ও তার ছেলে রিপন আলী হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। এর আগে ১৬ মে জেএমবি সদস্য মাসকাওয়াত হাসান সাকিব আদালতে জবানবন্দি দেয়।

এদিকে, অধ্যাপক রেজাউল হত্যার তিন মাস উপলক্ষে ক্যাম্পাসে মৌন মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহীদুল্লাহ কলাভবনের সামনে থেকে  তারা একটি মিছিল বের করে  ‘মুকুল প্রতিবাদ ও সংহতি মঞ্চে’ এসে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

সমাবেশে বিভাগের অধ্যাপক জহুরুল ইসলাম বলেন, অধ্যাপক রেজাউল হত্যার তিন মাসেও দৃশ্যমান কোনও অগ্রগতি দেখতে পাইনি। আমাদের দেশে একটি সংস্কৃতি তৈরি হয়ে গেছে, বিচার না চাইলে বিচার পাওয়া যাবে না। তাই আমাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখতে হবে। ধীরে ধীরে মামলা দীর্ঘসূত্রিতায় পরিণত হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জানতে চাইলে অধ্যাপক রেজাউলের মেয়ে রিজওয়ানা হাসিন শতভি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি এবং আমার পরিবারের একটাই বক্তব্য আব্বুর হত্যা মামলা যেন ক্ষমতার প্রভাব ও অর্থনৈতিক প্রবণতা থেকে মুক্ত থাকে। আর মামলা যেন দীর্ঘসূত্রিতায় পরিণত না হয় সেজন্য যতদ্রত সম্ভব সকল জড়িতদের গ্রেফতার করার দাবি জানাচ্ছি।’

গত ২৩ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পথে বাসার পাশেই খুন হন অধ্যাপক রেজাউল। এরপর থেকে বিচারের দাবিতে বিরতিহীন আন্দোলন করে আসছেন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। পরে ১৪ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করেন। তবে তারা ‘সাপ্তাহিক’ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন।

আরও পড়ুন:
নরসিংদীতে ট্রলার ডুবে ৯ জনের মৃত্যু

/বিটি/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু 
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু 
বিক্রির জন্য নিলামে উঠছে এই আধুনিক দুর্গটি
বিক্রির জন্য নিলামে উঠছে এই আধুনিক দুর্গটি
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম