দেড়মাস পার হলেও পাবনার শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র আশ্রমের সেবক নিত্যরঞ্জন পাণ্ডে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটিত হয়নি। আশ্রমবাসীদের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক পুলিশি পাহারার ব্যবস্থা করা ছাড়া হামলাকারীদের শনাক্ত বা হত্যার কারণও জানাতে পারেনি পুলিশ।
এদিকে পুলিশি পাহারার পরও উদ্বেগ আর আতঙ্ক কাটেনি আশ্রমের বাসিন্দাদের। পাশাপাশি কমে গেছে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত দর্শনার্থী ও পুণ্যার্থীর সংখ্যা। এছাড়া আশ্রমের নিরাপত্তার জন্য বসানো হচ্ছে সিসি ক্যামেরা। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ করছেন তারা।
চট্টগ্রাম থেকে আগত দুজন ভক্ত অশোক চৌধুরী ও ছায়া মনি দাশ বলেন, আমরা প্রতিবছর দুটি বাসে শতাধিক ভক্ত পাবনার ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের আশ্রম পরিদর্শনে আসি। কিন্তু এবার একটি বাসে করে কয়েকজন এসেছি। দেশের পরিস্থিতি ও আশ্রমের একজন সেবক খুন হওয়ায় অনেকের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
পাবনা সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল হাসান জানান, রিমান্ডে নিয়ে আটককৃতদের কাছ থেকে তেমন কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
পাবনার পুলিশ সুপার আলমগীর কবির জানান, এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন কিংবা হামলাকারীদের শনাক্ত করা যায়নি। তবে বেশ কিছু বিষয় সামনে রেখে তদন্ত চলছে। আশ্রমবাসীর নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক পুলিশি পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশ্রমের নিরাপত্তার জন্য বসানো হচ্ছে সিসি ক্যামেরাও।
প্রসঙ্গত, গত ১০ জুন শুক্রবার ভোরে প্রাতঃভ্রমণে বের হয়ে দুর্বৃত্তদের হাতে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হন অনুকূল চন্দ্র আশ্রমের অফিস সহকারী ও সেবক নিত্যরঞ্জন পাণ্ডে। ঘটনার পর ওই রাতেই আশ্রমের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক যুগল কিশোর ঘোষ বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যাক্তিদের আসামি করে পাবনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ ছাত্রশিবিরের পাবনা শহর শাখার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আরিফুল ইসলামসহ সন্দেহভাজন চারজনকে আটক করে। আটককৃতদের পাঁচদিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, ১৯২২ সালে পাবনা সদর উপজেলার হেমায়েতপুরে হিন্দুদের ধর্মীয় সাধক ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র ১৩০ বিঘা জমির ওপর ‘ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র সৎসঙ্গ হেমায়েতপুর ধাম’ প্রতিষ্ঠা করেন।
/এমও/
আপ: এইচকে








