রাজশাহী মহানগরীর ডিঙ্গাডোবায় স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার রিফাহ তাসফিয়া আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। রবিবার দুপুরে তিনি রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত-১ এর বিচারক মোকসেদা আসগরের কাছে স্বামীর অমানুষিক নির্যাতনের জবানবন্দি দেন।
জবানবন্দি শেষে ভিকটিমের আইনজীবী জতিউল ইসলাম শাফি বলেন, আমার জবানবন্দিটা শোনা হয়নি। তবে আমি যতটুকু জেনেছি, তাসফিয়া তার জবানবন্দিতে সুস্পষ্টভাবে নির্যাতনের ঘটনা তুলে ধরেছেন।
তাসফিয়ার চাচা মীর আবু সাঈদ শিমুল বলেন, যৌতুকের জন্য তাসফিয়ার স্বামী তার দুই হাত ও এক পা ভেঙে দিয়েছে। বুকের ও পাঁজরের দুটি হাড়ও ফেটে গেছে। মাথায় সেলাই লেগেছে ১৬টি। এসব নির্যাতন কেন হয়েছে, কীভাবে হয়েছে এবং এর সঙ্গে কারা কারা জড়িত- সেসব বিষয়ই জবানবন্দিতে আদালতকে জানিয়েছেন তাসফিয়া।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আদালতের তলবে রিফাহ তাসফিয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারা মতে এই জবানবন্দি দিলেন। গত ১১ জুলাই থেকেই তিনি রামেক হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস (ওসিসি) বিভাগে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আজই (রবিবার) তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এরপরই তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়।’
মাত্র দুই বছর আগে রাজপাড়া থানার ডিঙ্গাডোবা এলাকার ফজলুল হকের ছেলে শামিউল হক সোহাগকে (৩০) ভালোবেসে বিয়ে করেন নগরীর ভাটাপাড়া এলাকার আবদুস সালামের মেয়ে রিফাহ তাসফিয়া (২২)। তাদের একটি ৬ মাসের মেয়ে সন্তান আছে।
তাসফিয়ার মা হোসনে আরা পারভীন জানান, বিয়ের পর মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে তার স্বামীকে তারা দেড় লাখ টাকা দিয়েছি। কিন্তু আরও ৫০ হাজার টাকা যৌতুকের দাবিতে তাসফিয়ার ওপর নির্যাতন চালাতেন স্বামী সোহাগসহ তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১১ জুলাই লাঠি, লোহার রড ও পাইপ দিয়ে তাসফিয়াকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন স্বামী সোহাগ, তার মা জাহানারা বেগম সুজি (৫০), বাবা ফজলুল হক (৫৬), ভাই ফয়সাল (৩০) ও সজীব (২৮)। ওই দিন খবর পেয়ে তারা তাসফিয়াকে উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় তাসফিয়ার মা এই ৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ সোহাগকে গ্রেফতার করে। তখন থেকেই সোহাগ কারাগারে। তবে মামলার অন্য আসামিরা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিয়েছেন।
/এইচকে/
আরও পড়ুন: ভোটার হতে পারছেন না বিলুপ্ত ছিটমহলের কয়েক হাজার বাসিন্দা








