বগুড়ার সারিয়াকান্দির কাছে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। পানি বৃদ্ধির ফলে এ উপজেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ২৪ ঘণ্টায় পানি ১১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
পানি বৃদ্ধির ফলে হাটশেরপুর ইউনিয়নের নিজবলাইল, সদর ইউনিয়নের দীঘলকান্দি গ্রামের সামনে পুরাতন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকিতে পড়েছে। বসতঘর, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি ওঠায় বন্যা কবলিত এলাকার লোকজন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বন্যা কবলিত এলাকার লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ে যাচ্ছে। বন্যা কবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট ও পানিবাহিত রোগ দেখা দিয়েছে।
চালুয়াবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস সরকার জানান, পানি বৃদ্ধি ও স্রোতের কারণে ৫ শতাধিক বাড়িঘর, ৫টি সেতু, ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ১টি আশ্রয়ন ও ১টি গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ১৩টি মেডিক্যাল টিম ও ৫টি অস্থায়ী টিম বন্যা কবলিত এলাকায় সার্বক্ষণিক কাজ করছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার সারোয়ার আলম জানান, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ৮৭টি গ্রামের ১৯ হাজার ৮৫০টি পরিবারের লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি হয়ে আছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কামরুজ্জামান জানান, উপজেলায় ১৭ হাজার ১২ জন কৃষক পরিবারের ১ হাজার ৭২০ হেক্টর পাট, ১ হাজার ৪৭০ হেক্টর আউশ, ১ হাজার ২১৫ হেক্টর রোপা আমন, ১০৫ হেক্টর বীজতলা, ২৩ হেক্টর জমির সবজি ফসলসহ ৪ হাজার ৫৩৩ হেক্টর জমির ফসল বন্যার পানিতে তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বন্যার কারণে ৬টি উচ্চ বিদ্যালয়, ১টি মাদ্রাসা ও ৬২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস জানান, বন্যা কবলিত এলাকায় ৩০ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সরবরাহ করা হয়েছে।
/টিএন/আপ-এআর/








