মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সনদ দিয়ে আলোচনায় আসা সিরাজগঞ্জের শহিদুর রেজার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের তথ্য মতে, রেজার কাছ থেকে ভুয়া সনদ নিয়ে পোষ্য কোটায় মোট ৫২ জন পুলিশে চাকরি নেয়। এর মধ্যে ১৯ কনস্টেবলকে সম্প্রতি পাবনা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এখনও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বাকিদের বিরুদ্ধে।
এদিকে বেলকুচি উপজেলার বহিষ্কৃত মুক্তিযোদ্ধা রেজাকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদুক)। তাদের ধারণা, জেলা ও জেলার বাইরে রেজা প্রায় ৮০০ ভুয়া সনদ দিয়েছেন।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, কেবল চাকরি-বাকরির জন্য নয়, রেজার কাছ থেকে মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সনদ নিয়ে প্রতিমাসে অন্তত ৩৪ জন ভাতা তুলছেন। এরা সবাই বেলকুচি উপজেলার বাসিন্দা। এরমধ্যে ২২ জন বেলকুচি থেকে এবং ১২ জন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা থেকে ভাতা তোলেন।
জেলা ও উপজেলা কমান্ড ও দুদক’এর অভিযোগ, যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক আতাউল গনি ওসমানীসহ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরও জাল করে সনদ তৈরি করেন রেজা।
বেলকুচির ভারপ্রাপ্ত ইউনিট কমান্ডার নজরুল ইসলাম বলেন, বেলকুচিতে ৬০ থেকে ৭০ জন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন, যাদের পোষ্যরা তাদের সনদ দেখিয়ে সরকারের বিভিন্ন দফতরে চাকরি করছেন।
বেলকুচি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী আকন্দ বলেন, ‘শহিদুর রেজা আমার গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা পিস কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। আমার মনে হয়, রেজা শুধু সিরাজগঞ্জে নয়, সারাদেশে ভুয়া সনদ বিক্রি করে।’
জেলা ইউনিট কমান্ডার গাজী সফিকুল ইসলাম শফি বলেন, ‘রেজার মাধ্যমে জেলায় কম করে হলেও ছয় থেকে সাত শতাধিক অমুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন।’
সিরাজগঞ্জ-পাবনা অঞ্চলের দুদক উপ-পরিচালক আবু বকর সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি হজের কারণে ছুটিতে আছি।’ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-সহকারী পরিচালক (ডিএডি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘রেজাকে খোঁজা হচ্ছে। তবে তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।’
বেলকুচিতে রেজার গ্রামের বাড়ি ও পৌর এলাকার চালায় অবস্থিত বাড়িতে কয়েক দফায় গিয়ে রেজাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ। রেজার ছোট ভাই বেলকুচি মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শামসুল হক বলেন, ‘রেজা অসুস্থ, ঢাকায় চিকিৎসাধীন। তবে কোথায় চিকিৎসা নিচ্ছেন, তা তিনি বলতে রাজি হননি।’
ভুয়া সনদে পুলিশে চাকরি নেওয়া ৫২ জন
বেড়া ইউনিয়নের কল্যানপুর ধুলাঘাগরীখালী গ্রামের কোরবান আলীর ছেলে আলমাস হোসেন, হারুনার রশীদের ছেলে আবু তালেব ও সুজন, সাইফুল ইসলামের ছেলে শরীফুল ইসলাম, আছের উদ্দিনের ছেলে সবুজ আলী, হাফিজুর রহমানের ছেলে ইব্রাহীম, আজগর আলীর ছেলে মাহমুদুল, পাষান আলীর ছেলে মজনু মিয়া ও নুরনবী, আবু বকারের ছেলে আসলাম ও জাহিদ হোসেন, তেয়াশিয়া গ্রামের মহালম আলীর ছেলে আজিজল হক, ভাঙ্গবাড়ি ইউনিয়নের বিশ্বাসবাড়ি গ্রামের বুদ্দু শেখের ছেলে আব্দুল করিম, আছাব আলীর ছেলে আমিরুল ইসলাম। আরও আছে সগুনা গ্রামের গোলাম মর্তুজার ছেলে আব্দুর রহমান, লুৎফরের ছেলে জুবায়ের ও জুয়েল, রোস্তম আলী ভুইয়ার ছেলে রাঙ্গা ভুইয়া, নান্নু ভুইয়ার ছেলে ঝিলিন ভুইয়া, আব্দুর রহমান ভুইয়ার ছেলে নুরনবী ভুইয়া, আলী সরকারের ছেলে আব্দুর রহমান।
এই তালিকায় আরও আছে দৌলতপুর ইউনিয়নের মাহমুদ গ্রামের কালাচান সরকারের ছেলে রতন কুমার সরকার, ধুকুরিয়া বেড়ার আব্দুল কাদের চাঁনের ছেলে আব্দুস সামাদ, কল্যানপুর তেয়াশিয়া গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে ওমর ফারুক, হায়দার আলীর ছেলে আব্দুল হালিম, কেষ্ট কুমার পালের ছেলে বাবুল চন্দ্র পাল, আলমগীর হোসেন মোল্লার ছেলে জহুরুল ইসলাম, শাহ আলম সরকারের ছেলে সাইফুল ইসলাম, আলী সরকার চাঁনের ছেলে আব্দুল করিম, ক্ষিদ্রগোপরাখী গ্রামের রহিম বক্সের ছেলে নুর আলম, রামপদ সরকারের ছেলে নীলকণ্ঠ সরকার, মাহা আলমের ছেলে জহুরুল ইসলাম, ছাত্তার সরকারের ছেলে বাবুল সরকার, দক্ষিন বানিয়াগাঁতী গ্রামের ছানোয়ার হোসেনের পুত্র মিঠুন মিয়া, ইউসুফ আলী খানের ছেলে সুমন ও স্বাধীন, আব্দুল কাদের মণ্ডলের ছেলে কামরুজ্জামান, মেনহাজ মাস্টারের ছেলে রুবেল, ইব্রাহীমের ছেলে স্বপন, জয়নাল আবেদিন মোল্লার ছেলে জলিল মোল্লা, হেলাল মণ্ডলের ছেলে সুমন মণ্ডল, চন্দগাঁতী গ্রামের ছানোয়ার হোসেন আকন্দের ছেলে আতিয়ার রহমান আকন্দ, তামাই কাজিপুরা গ্রামের সাইফুল ইসলাম সরকারের ছেলে হানিফ সরকার, ভাঙ্গবাড়ি ইউনিয়নের কোনাবাড়ি গ্রামের আজাহার আলী খোন্দকারের ছেলে ইসমাইল হোসেন, বাছের উদ্দিন মীরের ছেলে মোতালেব হোসেন, কল্যানপুর হাটকান্দাপাড়া গ্রামের বলরাম সরকারের ছেলে প্রদীপ কুমার, নিশিবয়ড়া গ্রামের শাহ আলমের ছেলে বাবু মিয়া, বওড়া গ্রামের রাজাকার সিকিম ব্যাপারীর ছেলে বাহারুল এবং কোনাবাড়ি গ্রামের আব্দুল বারির ছেলে ফজলে।
আরও পড়ুন-
মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালকারীদের হোতা ‘কমান্ডার’ শহীদুর রেজা
ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদের কারবারি রেজার বিলাসবহুল বাড়ি
/এআরএল/এফএস/








