বিশ্ববাজারে চামড়ার বাজারে মন্দা, ট্যানারি মালিকদের গত বছরের চামড়ার অর্ধেক টাকা পরিশোধ না করা এবং লবণের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে পানির দরে চামড়া কিনছেন ব্যবসায়ীরা। আর এ সুযোগে ভারতে চামড়া পাচারের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন একাধিক ব্যবসায়ী। তবে বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত দিয়ে চামড়া পাচার রোধে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন তারা।
জানা গেছে, এবার জেলার ৫টি উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়া কোরবানি করা হয়েছে। ২২ জন পারমিটধারী ও বেশ কিছু মৌসুমী ক্ষুদে ব্যবসায়ী এসব পশুর চামড়া সংগ্রহ করছেন।
জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মঞ্জুর হোসেন জানান, বরাবরের মতো এবারও কোরবানির পশুর চামড়া নাটোর ও ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু ট্যানারি মালিকরা গতবারের তাদের সরবরাহকৃত চামড়ার টাকা ৫০ ভাগ পরিশোধ করলেও বাকি টাকা এ দেবো দিচ্ছি বলে ঝুলিয়ে রেখেছে। তাদের কাছে ব্যবসায়ীদের প্রায় ৩ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীরা এবার চামড়া কিনতে আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন। তারপরও বিশ্ববাজারে চামড়ার মন্দাবাজার, ৭৪ কেজি লবণের বস্তা ৬০০ টাকার স্থলে ১৪৫০ টাকা এবং ট্যানারি মালিকদের কম দামে চামড়া কেনার নির্দেশনা থাকার কারণে তারা এবার বাধ্য হয়ে ৭০০-৮৫০ টাকা দরে চামড়া কিনছেন।
মৌসুমি ব্যবসায়ী সামসুল ইসলাম জানান, চামড়া ব্যবসায়ীরা এবার তাদের ৫০০-৭০০ টাকার মধ্যে চামড়া কেনার পরামর্শ দেয়। এ কারণে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা গরু-মহিষের চামড়া গড়ে ৬০০- ৮০০ টাকা এবং খাসি-ভেড়া গড়ে ৫০-৬০ টাকা দরে কিনেছেন।
এ অবস্থায় গত কোরবানির চেয়ে এবারে চামড়া অর্ধেক দামে বেচা-কেনা হওয়ায় এবং প্রতিবেশী দেশ ভারতে চামড়ার দাম বেশি থাকার কারণে পাচারের আশঙ্কা করেছেন একাধিক ব্যবসায়ী।
এদিকে ৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এম আবুল এহসান জানান, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিদের্শনা অনুযায়ী সীমান্ত দিয়ে চামড়া যাতে পাচার না হয় সেজন্য প্রতিটি বিওপিকে কড়া নজরদারি ও সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি জেলার কোন কোন সীমান্ত দিয়ে চামড়া পাচার হতে পারে সেসব সীমান্ত চিহ্নিত করে সেই রুটগুলোতে অতিরিক্ত বিজিবি টহল জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
আরও পড়ুন-
সীমান্ত এলাকার মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করবে ‘সীমান্ত ব্যাংক’
সাজাপ্রাপ্ত তিন যুদ্ধাপরাধীর পরিবার সরকারের নজরদারিতে
/এফএস/







