সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত চার বাংলাদেশি শ্রমিকের মধ্যে তিন জনের লাশ বুধবার নাটোরের নলডাঙ্গায় এসে পৌঁছেছে। তাদের দাফনও সম্পন্ন হয়েছে। তবে এদের মধ্যে দুই জনের কফিনে ভিন্ন নাম পাওয়া গেছে। এছাড়া কাগজপত্রের জটিলতার কারণে চতুর্থ শ্রমিকের লাশ নাও আসতে পারে বলে জানা গেছে।
এদিকে একই এলাকার অপর একটি সোফা কারখানায় কর্মরত অবস্থায় স্ট্রোকে নিহত একই গ্রামের অপর একজনের লাশ দু-এক দিনের মধ্যে পৌঁছাবে বলে জানা গেছে।
দাফনকৃতরা হলেন-খাজুরা গ্রামের শামিউল ইসলাম ওরফে সাদ্দাম হোসেন, আব্দুল ওয়াহেদ ওরফে ওয়াসিম ও জামাল হোসেন মোল্লা। বুধবার সকাল ১১টার দিকে তাদের জানাজা শেষে উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নের খাজুরা পূর্ব ফকিরপাড়া গোরস্থানে দাফন করা হয়।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জাহান, উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানসহ প্রমুখ।
দাফনকৃতদের কফিন প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জামালের কফিনে সঠিক নাম থাকলেও ওয়াসিমের কফিনে সোলেমান এবং সাদ্দামের কফিনে ওয়াহেদ লিখা ছিল।
উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন জানান, তিনি নিজেও দেখেছেন যে, ওয়াসিমের কফিনে সোলেমান ও সাদ্দামের কফিনে ওয়াহেদ লিখা ছিল।
তিনি দাবি করেন, একই গ্রামের মোহাম্মদ আলী বাবু সৌদির একই এলাকায় অপর এক সোফা কারখানার শ্রমিক ছিল। আগুনের ঘটনার কয়েকদিন আগে সে স্ট্রোকে মারা যায়। কাগজপত্রের জটিলতার কারণে তার লাশটিও এখনও আসেনি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, নিহতের পরিবারের সদস্যরা তাকে জানিয়েছেন, কাগজপত্রের জটিলতার কারণে আমিনুল ইসলামের লাশ দেশে ফেরত পাঠাবে না সৌদি সরকার। অপর মোহাম্মদ আলী বাবুর লাশ দুই-একদিনের মধ্যেই আসবে।
এদিকে ঘটনার প্রায় ৪০ দিন পর নিহতদের মধ্যে তিন জনের লাশ আত্মীয়তের কাছে পৌঁছলেও এখনও পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যরা কোনও প্রকার সরকারি-বেসরকারি অনুদান পাননি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জাহান জানান, নিহতদের পরিবারে এখনও কোনও আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়নি। তবে পরিবারের সদস্যদেরকে আবেদন করতে বলা হয়েছে। আবেদন পেলে তা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এক জনের লাশ শুক্রবারের মধ্যেই আসবে বলে তিনি জেনেছেন।
প্রসঙ্গত, গত ১০ আগস্ট সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের পুরাতন শহর হারাজ বিন কাশেম মানফুহা এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় বৈদ্যুতিক লাইন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে নাটোরের খাজুরা গ্রামের ৪ জনের প্রাণহানী ঘটে। এর কিছুদিন আগে সৌদির একই এলাকার অন্য সোফা কারখানায় কর্মরত একই গ্রামের মোহাম্মদ আলী বাবু নামে অপর শ্রমিক স্ট্রোক করে নিহত হন।
/এআর/








