নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় সরকারের ‘খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচির’ আওতায় হতদরিদ্রদের মাঝে ১০ টাকা কেজি চাল বিতরণে দলীয় নেতাকর্মী ও চেয়ারম্যান মেম্বারদের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। তালিকায় হতদরিদ্রদের পরিবর্তে রয়েছে তাদের আত্মীয় স্বজনের নাম যারা বেশিরভাগই স্বচ্ছল। এ কারণে প্রকৃত হতদরিদ্ররা তাদের প্রাপ্ত অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আবার যারা চাল পাচ্ছেন তাদেরকে ২-৩ কেজি করে ওজনে কম দেওয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে। এলাকাবাসীর দাবি, কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে নতুন তালিকা তৈরি করে প্রকৃত হতদরিদ্রদের নামে কার্ড ইস্যু করা হোক।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, এ উপজেলায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ টাকা কেজি দরে চাল হতদরিদ্রদের মাঝে বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। হতদরিদ্র পরিবারের ৯৯৪ জনের একটি তালিকা করে উপজেলা খাদ্য অফিসে দেওয়া হয়েছে। তবে তালিকা থেকে অনুসন্ধানে এলাকায় গিয়ে পাওয়া যায় ভিন্ন তথ্য। তালিকায় অধিকাংশ নাম রয়েছে চেয়ারম্যান, মেম্বার ও দলীয় নেতাকর্মীদের আত্মীয় স্বজনের। তাদের স্বজনপ্রীতির কারণে যাদের নামে কার্ড দেওয়া হয়েছে তারা অধিকাংশ স্বচ্ছল। এছাড়া একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নামেও কার্ড দেওয়া হয়েছে।
এমন তালিকায় নাম রয়েছে আধাইপুর ইউপির ৭ নং ওয়াডের সত্যপাড়া গ্রামের রিংকন হোসেনের। তার রয়েছে পাকা বাড়ি, ৮-১০ বিঘা জমি ,একটি মুদি দোকান ও একটি রাইসমিল। স্বজনপ্রীতির কারণে এই কার্ডটি দিয়েছেন ওই ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার সাবিনা ইয়াসমিন । এছাড়াও তিনি তার আপন দেবর বেগুনজোয়ার গ্রামের উজ্জ্বল হোসেনের নামে কার্ড দিয়েছেন যার দোতলঅ পাকাবাড়ি ও ৫-৭ বিঘা জমি আছে।
এছাড়া বিলাশবাড়ি ইউপির ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার হলুদ বিহার গ্রামের দেলোয়ার হোসেন দুলুর বাবা গিয়াস উদ্দিন এবং মা জাহেরা দুজনের নামেই কার্ড দিয়েছেন। গিয়াস উদ্দিনের বয়স্ক ভাতার কার্ড রয়েছে।
এছাড়াও তালিকায় রয়েছে একাধিক ভুয়া নাম। আবার যাদের ভুয়া নামে কার্ড আছে তাদের চাল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, সদস্য ও দলীয় নেতাকর্মীরা উত্তোলন করে আত্মসাত করছেন। অথচ হতদরিদ্ররা ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এদিকে ডিলারদের বিরুদ্ধে চাল কম দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আবার দলীয় নেতাকর্মীদের অনেকে তাদের স্বার্থ উদ্ধারে ব্যর্থ হলে হতদরিদ্রদের পক্ষ হয়ে ডিলারের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়া ও চাল ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ করে।
হলুদ বিহার গ্রামের হতদরিদ্র লুৎফর রহমান বলেন, জোড়াতালি দেওয়া টিনের ছাপড়ার ঘরে থাকি। অন্যের বাড়িতে দিনমজুরের কাজ না করলে দিন চলে না। অথচ আমার মতো অনেকেই ১০ টাকা কেজি দরে চালের কার্ড না দিয়ে যারা চেয়ারম্যান ও মেম্বারের পিছনে কাজ করেছেন তাদেরকে কার্ড করে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় শহীদুল ইসলাম জানান, প্রকৃত হতদরিদ্রদের কার্ড না দিয়ে দলীয় নেতাকর্মী এবং তাদের আত্মীয় স্বজনদের দেওয়া হয়েছে। ফলে যারা চাল পাওয়ার যোগ্য তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। আগের তালিকা বাতিল করে নতুন করে তালিকা প্রণয়নের দাবি জানান তিনি।
বিলাশবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান কেটু বলেন, আমি বিরোধী দলের চেয়ারম্যান। দায়িত্বগ্রহণ করার পর ১ হাজার জনের একটি তালিকা পেয়েছি যা আগের চেয়ারম্যান তৈরি করেছিলেন। সেখানে তাদের দলীয় নেতাকর্মীদের নাম রয়েছে। কার্ড দেওয়ার নামে তারা অনেকের কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়েছেন বলে শুনেছি। তারা অনুরোধ করায় তালিকায় স্বাক্ষর করেছি। তবে তালিকা থেকে অধিকাংশ প্রকৃত হতদরিদ্র বাদ পড়েছেন।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ফারজানা পপি বলেন, হতদরিদ্র পরিবার বাছাই করে তালিকা তৈরি করেন উপজেলা পর্যায়ের সরকারি একজন কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্য, সচিব এবং ট্যাগ অফিসার সভাপতি। তালিকায় যদি স্বচ্ছল পরিবার থাকে সেটার দায়িত্ব ওই কমিটির। তবে তদন্ত কমিটি করে যাচাই করা হবে। আর এ ধরনের অনিয়ম পেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
/এআর/








