গোবিন্দগঞ্জের জয়পুর ও মাদারপুরে সাঁওতালদের ওপর হামলা ও তিনজনকে হত্যার ঘটনায় গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের এমপি অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগ কেন্দ্রীয় কমিটি। বুধবার দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এ দাবি জানানো হয়।
বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ শরিফুল ইসলাম লিখিত বক্তব্যে বলেন, রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ আখ চাষের জন্য ১৯৫৪ সালে গোবিন্দগঞ্জের জয়পুর, মাদারপুরসহ ৫টি গ্রামে এক হাজার ৮৪২ একর জমি হুকুম দখল করে। ১৯৬২ সালের চুক্তি অনুসারে জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। চুক্তির শর্ত ছিল, চিনিকল বন্ধ হলে জমিগুলো প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর ২০০৪ সালে চিনিকল বন্ধ করা হয়। তৎকালীন সংসদ সদস্য মরহুম মোত্তালেব হোসেন ওই জমি থেকে কিছু দলীয় প্রভাবশালীদের স্বল্পমূল্যে লিজ দেন। তখন থেকেই সাঁওতালরা স্থানীয় কিছু ভূমিদস্যুর খপ্পরে পড়ে ভূমি উদ্ধার কমিটির ব্যানারে আন্দোলন শুরু এবং চিনিকল কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ সাঁওতালদের নানাভাবে সহযোগিতা করে আসছেন। ২০১৩ সালে চাঁদে জামায়াত নেতা সাঈদীকে দেখানোর নামে জামায়াত-বিএনপি জোট সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে আগুন, লুটপাট ও নারীদের লাঞ্ছিত করলেও এমপির কারণে সাঁওতালদের জানমাল রক্ষা পায়। সাঁওতালদের এক মেয়ে অপহৃত হলেও তার হস্তক্ষেপে উদ্ধার হয়।
শরিফুল ইসলাম আরও বলেন, অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ যখন এলাকার উন্নয়ন করে যাচ্ছেন, ঠিক তখন কিছু কুচক্রি মহল তাদের স্বার্থে জমি উদ্ধার করে দেওয়ার নামে সাঁওতালদের কাছে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তারা সাঁওতালদের ঢাল হিসেবে ব্যাবহার করে তাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। ওই কুচক্রি মহল এমপির জনপ্রিয়তায় ইর্ষান্বিত হয়ে সাঁওতাল নিহতের ঘটনায় তাকে জড়িত করে তার ভাবমূর্তি নষ্টে ষড়যন্ত্র করছেন। তিনি ওই মামলা প্রত্যাহার ও বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগের নেতা রেজাউল বারী মিন্টু, শামীম আহমেদ, মহিদুল ইসলাম, ডলার প্রামানিক, মো. বাচ্চু, আল-ইমরান, মামুনুর রশীদ মামুন, হুমায়ন কবীর, শাহনুর রহমান, আজিজুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, চিনিকলের এমডি এবং দুই ইউপি চেয়ারম্যানসহ অজ্ঞাত আরও ৫-৬শ' জনের বিরুদ্ধে গত ২৬ নভেম্বর মামলা হয়েছে। ঘটনার ২০ দিন পর বাগদা সাহেবগঞ্জ আদিবাসী ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির পক্ষে সাপমারা ইউনিয়নের সাঁওতালপল্লি হরিণাবাড়ি নতুনপাড়ার মাহিলে হেমব্রমের ছেলে তমাস হেমব্রম এ মামলা করেন।
/এআর/








