বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে ১৩ দিন পর বুধবার দুপুরে পৌরসভার তালা খুলে দেওয়া হয়েছে। ভবন মালিক যুবলীগ নেতা মাসুদুর রহমান মাসুদ ভাড়াটেপক্ষের সঙ্গে করা চুক্তির শর্ত অমান্য করে গত ১ ডিসেম্বর তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
বুধবার দুপুরে সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএসএম ওয়াহেদুজ্জামান বুধবার দুপুরে ভবন মালিক, পৌর মেয়র, কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারিদের উপস্থিতিতে তালা খুলে দেন। এতে ১৩ দিন পর পৌরসভায় স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়।
পৌরবাসীর অভিযোগ, এতদিন তারা নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তালা খুলে দেওয়ার পর থেকে স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে সকলের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানা যায়।
সারিয়াকান্দি পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর শাহী সুমন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম প্রদান করে দু’বছরের চুক্তিতে মাসিক ৮ হাজার টাকায় অফিসটি ভাড়া নেন। ভবন মালিক মাসুদ ১ ডিসেম্বর সকালে লাইসেন্স পরিদর্শক আবদুর রশিদসহ কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বের করে দিয়ে অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে পৌরবাসী সেবা থেকে বঞ্চিত হন।
স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল মান্নানের উস্কানিতেই তার সমর্থক যুবলীগ নেতা মাসুদ পৌরভবনে তালা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন এই মেয়র।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিজেকে সারিয়াকান্দি উপজেলা যুবলীগের ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক দাবি করে ভবন মালিক মাসুদুর রহমান মাসুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ২-৩ মাসের জন্য ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। বার বার বলা সত্ত্বেও মেয়র পৌর কার্যালয় অন্যত্র সরিয়ে নেননি। ভাড়াটিয়া রাখা হবে না, তাই তালা দেওয়া হয়েছিল। এখানে এমপি বা অন্য কারও উস্কানি নেই।
এ অচলাবস্থা নিরসনে বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পাবলিক লাইব্রেরি অ্যান্ড ক্লাবে পৌর কাউন্সিলর, ভবন মালিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন।
ওই ভবনে আগামী ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পৌরসভার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উভয়পক্ষ একমত হলে, তালা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ওসি জানান, উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হওয়ায় পৌর কার্যালয়ে লাগানো তালা খুলে দেওয়া হয়েছে।
/এইচকে/








