সিরাজগঞ্জে যমুনার পশ্চিম পাড়ের সদর ও কাজিপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)’র ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পাশে শীতকালেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যেই সদর উপজেলার পাউবোর কাজিপুরের শুভগাছার টুটুলের মোড়ে গত কদিনের অব্যাহত নদী ভাঙনে শতাধিক ঘরবাড়ি যমুনায় বিলীন হয়ে গেছে। তবে বরাদ্দ নেই এমন অযুহাতে এসব এলাকায় বিকল্প বাঁধ নির্মাণ, ভাঙন ঠেকানো এবং স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পদক্ষেপ বা প্রকল্প গ্রহণে উদাসীন পাউবো।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অব্যাহত ভাঙনে নতুন করে বিলীনের অপেক্ষায় রয়েছে আরও শতাধিক ঘরবাড়ি। ভাঙন অব্যাহত থাকলে আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই শুভগাছায় ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যাওয়া সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বর্ষার আগেই সদরের শিমলা ও চর-বাহুকা ও কাজিপুরের শুভগাছা ও ক্ষুদবান্দির প্রায় ৮কিলোমিটার অরক্ষিত অংশে তীর রক্ষা বাঁধ এবং টুটুলের মোড়ে বিকল্প বাঁধ নির্মাণসহ স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন যমুনা পাড়ের ভাঙন কবলিত অসহায় শত শত মানুষজন।
স্থানীয়রা জানায়, টুটুল মোড়ের বাঁধের পাশে গত বছর বিশাল চর জেগে উঠায় যমুনা নদীর স্রোতে সরাসরি তীরে আঘাত করছে। এ অঞ্চলে পাউবোর তীর রক্ষা বাঁধ না থাকায় ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে।
শুভগাছা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের জানান, দুদিন পর পরই থেমে থেমে ভাঙছে। কমপক্ষে ৭০ থেকে ৮০টি পরিবার গত দুই মাসে এরই মধ্যে অন্যত্র চলে গেছে। একই এলাকার আবু হাশেম জানান, ভাঙতে ভাঙতে চর-বাহুকা সরকারি প্রাইমারি স্কুলের পাশে নদী অবস্থান করছে। নদী পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের মাত্র ২০ মিটার দূরে অবস্থান করলেও তাদের এ নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই। ভাঙন স্থানের পাশে পাউবোর লোকজন গুটি কয়েক জিওব্যাগ বালির বস্তা সাজিয়ে রেখেছে। পাউবোর লোকজন দফায় দফায় এ এলাকায় ভাঙন স্থান পরিদর্শন করলেও তারা কোনও স্থায়ী পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। গত বছর পাউবোর লোকজন ড্রেজিং মেশিন এখানে এনে দীর্ঘদিন রাখলেও তা কোনও কাজে আসেনি।
পাউবোর স্থানীয় সেকশনাল অফিসার (সদর) রনজিৎ কুমার সরকার বলেন, ‘টুটুল মোড়ের বাঁধের পাশে যমুনায় বিশাল চর জেগে উঠেছে। তাই যমুনার স্রোতে সরাসরি তীরে আঘাত করায় ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে।’
পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল হক বলেন, ‘যমুনার অব্যাহত ভাঙনে বাঁধ থেকে নদী এখন ২০ মিটার দূরে অবস্থান করছে। পাউবো, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা দফতরসহ ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে অবগত আছেন।’
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, ‘সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলার ক্ষুদবান্ধি, শুভগাছার টুটুলের মোড় থেকে সদর উপজেলার শিমলা পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের নদী তীর সংরক্ষণ কাজের জন্য ৫৮৮ কোটি টাকার একটি ডিপিপি পাউবো বরাবর পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই এটি পরিকল্পনা কমিশনে যাবে। প্রকল্পটি পাশ হওয়ার পর বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে কাজ বাস্তবায়িত হলে কাজিপুর-সদর উপজেলার ওই অংশে ভাঙন স্থায়ীভাবে রক্ষা পাবে। আমাদের সদিচ্ছার কোনও অভাব নেই। কিন্তু বরাদ্দ না পেলে কিছুই করার থাকে না। পাউবো থেকে প্রতি বছর যা বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা দিয়ে ভাঙন রোধ সম্ভব হয় না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঠিকাদারদের পাওনা ৪০ থেকে ৪২ কোটি টাকার বকেয়া এখনও পড়ে আছে। টুটুলের মোড়ে ভাটি ও উজানে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বিকল্প বাঁধ নির্মাণ করা না হলে আগামী বর্ষায় বাঁধ ভেঙে সদর ও কাজিপুরসহ সিরাজগঞ্জ শহর বন্যায় প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
পাউবোর রাজশাহী অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মহম্মদ আলী বলেন, ‘বাজেট বরাদ্দ নিয়ে সংকটের মধ্যে আছি। আমি নিজেও ওই এলাকা পরিদর্শনের পর বোর্ডের কাছে চিঠি লিখেছি। কিন্তু এখনও বরাদ্দ পাইনি।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘আমি নিজেও ওই এলাকায় গিয়ে ভাঙন পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছি। বরাদ্দ প্রাপ্তির জন্য পাউবো, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা দফতরে আমি বার বার যোগাযোগ করছি।’
/এমডিপি/








