সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আওয়ামী লীগের দুগ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া, ককটেল নিক্ষেপ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় এক সাংবাদিক গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহত সাংবাদিক শিমুলকে বগুড়া শহীদ জিয়ারউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে মনিরামপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল হক এ ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
শাহজাদপুর পৌর আওয়ামীলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ভিপি রহিম জানান, দিলরুবা বাস টার্মিলান থেকে উপজেলা সদর পর্যন্ত রাস্তার টেন্ডার হলেও দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদার সংস্কার কাজ শুরু করেনি। এ বিষয়ে ব্যাপারে স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে সক্রিয় হওয়ায় ঠিকাদার পক্ষের লোকজন আগে থেকেই আমার শ্যালক শাহজাদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বিজয় মাহমুদের ওপরে ক্ষুব্ধ ছিল। এরই জের ধরে ঠিকাদারদের পক্ষ নিয়ে শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র হালিমুল হক মিরু’র ছোট ভাই পিন্টু বৃহস্পতিবার দুপুরে আমার শ্যালককে কালিবাড়ি এলাকায় বেধড়ক মারধর করে হাত-পা ভেঙে দিয়েছে।
স্থানীয় সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্রলীগ নেতা বিজয়কে মারধরের সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে দলের কর্মী-সমর্থক ও তার মহল্লা কান্দাপাড়ার লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে মনিরামপুর এলাকায় অবস্থিত পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরু’র বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় মেয়রের সমর্থকরাও তাদের ওপরে হামলা চালায়। এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে কর্তব্যরত দৈনিক সমকাল পত্রিকার শাহজাদপুর প্রতিনিধি আব্দুল হাকিম শিমুলের মাথায় ও মুখে গুলি লেগে গুরুতর আহত হন। তাকে প্রথমে উপজেলার পোতাজিয়া হাসপাতালে ও পরে বগুড়ায় নেওয়া হয়েছে। এ সময় আরও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ভিপি রহিমের সমর্থক ও তাদের গ্রামের লোকজন বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়কের শাহজাদপুরের দিলরুবা বাস টার্মিনাল এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে।
অন্যদিকে, পুলিশ পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরুর ব্যক্তিগত শর্টগান জব্দ এবং তার ছোট ভাই পিন্টুকে ঘটনার পর পরই থানা হেফাজতে রেখেছে।
পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরু বলেন, ‘আমার ছোট ভাই পিন্টু ও ভিপি রহিমের শ্যালকের মধ্যে মারামারির কিছুক্ষণ পরই ভিপি রহিমের লোকজন লাঠিসোটা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মিছিল নিয়ে এসে আমার বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা গুলিবর্ষণ শুরু করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমিও বাড়ির ভেতর থেকে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করি। এ ঘটনার আগেই পুলিশ আমার ভাইকে থানায় নিয়ে যায় এবং সংঘর্ষের পর ওসি ও ইউএনও এসে আমার শর্টগানটিও থানায় নিয়ে গেছেন। বিষয়টি আমি পুলিশ সুপারকেও জানিয়েছি। এ সময় আমার বাড়ির মিস্ত্রি ও সাংবাদিক শিমুলসহ ৫ জন আহত হয়।’
ওসি রেজাউল হক জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আধা ঘন্টা মহাসড়ক অবরোধের পর তাদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে।
/এমডিপি/








