নওগাঁয় যৌতুকের দাবিতে বিয়ের মাত্র দুই মাসের মাথায় স্বামীর পরিবারের বর্বর নির্যাতনের শিকার হাবিবা খাতুন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।তাদের নির্যাতনে হাবিবার মাথা ও পিঠে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। খাবার দেওয়া হচ্ছে নাক দিয়ে। শরীরের কোনও অংশই আর কাজ করছে না তার। শুধু বিছানায় শুয়ে শুয়ে মাঝে মধ্যে একটু করে চেয়ে দেখছে।
পরিবারের দাবি, যৌতুকের জন্য হাবিবাকে অমানবিক নির্যাতন করেছে স্বামী ও তার মা। এদিকে বর্তমানে চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পারায় অচেতন মেয়েকে নিয়ে অমানবিক জীবন কাটাচ্ছে ওই পরিবারটি। এ বিষয়ে হাবিবার বাবা হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। মামলার পর হাবিবার স্বামী তামভি হাসান অভি ও তার বাবাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ আগস্ট হাবিবা খাতুনের সঙ্গে একই মহল্লার শামসুজ্জোহা খান বিদ্যুতের ছেলে তামভি হাসান অভির বিয়ে হয় । এর কিছুদিন পরই হাবিবাকে বাবার বাড়ি থেকে ২ লাখ টাকা নিয়ে আসতে বলে অভি। কিন্তু হাবিবার বাবা হাফিজুর রহমানের পক্ষে তা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এক পর্যায়ে গত ৩০ নভেম্বর বিকালে হাবিবার বাবার কাছে খবর পাঠানো হয় তার মেয়ে গলায় দড়ি দিয়ে মারা গেছে। কিন্তু ওইদিনই অভির পরিবার হাবিবাকে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক জীবিত আছে জানিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাবিবাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে।
রাজশাহী মেডিক্যালে ভর্তি করানোর মাত্র ৪দিন পর অচেতন হাবিবাকে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে নিয়ে যায় তারা। মেয়েকে দেখতে হাবিবার পরিবার রাজশাহীতে গেলে হাসপাতালের নির্ধারিত ঠিকানায় মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে তারা নওগাঁর স্থানীয় কমিশনার মজনু হোসেন ও ছেলের বাবা শামসুজ্জোহার কাছে যান। তাদের সহযোগিতায় প্রায় ৬দিন পর রাজশাহীতে তামভির এক আত্মীয়ের বাসায় অচেতন অবস্থায় হাবিবাকে পাওয়া যায়। এরপর বাবা হাফিজুর রহমান তার মেয়েকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে রাখা হয় লাইফ সাপোর্টে। দীর্ঘ ১৬ দিন লাইফ সাপোর্টে রাখার পর তাকে চিকিৎসকরা হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তির পরামর্শ দেন। সেখানে ৩ দিন থাকার পর বাড়ি নিয়ে যেতে বলেন চিকিৎসকরা।
হাবিবার বাবা হাফিজুর রহমান জানান, মেয়েকে বাড়ি নিয়ে আসার পর স্থানীয় নিউরোলোজিস্ট বিশেষজ্ঞ ডা. মিলন বাদশার কাছে চিকিৎসা শুরু করেন তারা। কিন্তু এখন পর্যন্ত মেয়ের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি।
মেয়ের এমন অবস্থার জন্য যারা দায়ী তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তিনি।
হাবিবার মা সফুরা আখতার জানান, ৩০ নভেম্বর মেয়ের খবর পাওয়া মাত্রই চিকিৎসার কথা বলছিলেন তারা। কিন্তু রাজশাহীতে নেওয়ার পর থেকেই মোবাইল ফোনে ছেলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয় তাদের মেয়ে সুস্থ আছে।মিথ্যা সান্তনা দিয়ে দিনের পর দিন তাদের মেয়েকে চিকিৎসা না করিয়ে মেরে ফেলতে চেয়েছিলেন তারা।
তিনি আরও জানান, উন্নত চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ নেই তাদের। আর তাই এখন কী করা উচিত ঠিক তা বুঝে উঠতে পারছেন না তারা।
এ বিষয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল হাসপাতালের সহকারী রেজিস্টার ডা. মিলন বাদশা জানান, শরীরের জটিলতা দেখা দেওয়ায় তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না। এ অবস্থা থেকে আদৌ তাকে বাঁচানো যাবে কিনা তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।
নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি তোরিকুল ইসলাম বলেন, মামলা হওয়া মাত্রই অভিযুক্ত তামভি হাসান ও তার বাবা শামসুজ্জোহা খানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর আরেক আসামি ছেলের মা সৈয়দা তাহমিনাতুলকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
/এআর/








