রাজশাহীতে সাবেক স্ত্রীর ভাইয়ের ছুরিঘাতে ভগ্নিপতি খুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার নাম সাইদুর রহমান (৪০)। রবিবার (৫ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে নগরীর কাজলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সাইদুরের বাড়ি কাজলা এলাকাতে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মতিহার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহাবুব আলম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, গ্রেফতারের পর সাইদুরকে থানায় এনে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানানো হতে পারে। এছাড়া মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রনি ও বিপ্লব দুই বন্ধু ছিলেন। প্রায় ৯ বছর আগে বিপ্লব ভালোবেসে রনির ছোট বোন লিজা খাতুনকে বিয়ে করেন। শুরু থেকেই এই বিয়ে মেনে নিতে পারেনি লিজার পরিবার। ২০০৮ সালে বিপ্লব ও লিজার ঘরে একটি মেয়ে সন্তান জন্ম নেয়। সন্তান হলেও প্রায় বছর চারেক আগে বিপ্লব ও লিজার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। লিজা চাকরির কারণে চট্টগ্রামে চলে যায়। তবে লিজা বাড়ি এলে বিপ্লবের সঙ্গে তার যোগাযোগ হতো। তারা আবারও ঘর বাধার স্বপ্নও দেখছিলেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাহাবুব আলম জানান, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে শুক্রবার (৩ মার্চ) বিপ্লবকে বাড়ির বাইরে ডেকে আনে রনি।পরে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে রনির ছুরিকাঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় বিপ্লব।
হত্যাকাণ্ডের মোটিভ সম্পর্কে তদন্ত কর্মকর্তা মাহাবুব আলম বলেন, লিজার সঙ্গে বিপ্লব যোগাযোগ করতো। এটা রনি মেনে নিতে পারেননি। আর প্রতিবেশী সাইদুরের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে বিরোধ আছে বিপ্লবের পরিবারের। এসব নিয়েই পরিকল্পিতভাবে বিপ্লবকে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবারের লোকজন বলছে। আমরা সব বিষয় তদন্ত করে দেখছি।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (০৩ মার্চ) বিকেলে রাজশাহী নগরীর কাজলা কেডি ক্লাব এলাকায় প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয় জাহিদ বিপ্লবকে। বিপ্লব ওই এলাকার এরশাদ আলীর ছেলে। ঘটার পর শুক্রবার মধ্যরাতেই তিনজনকে আাসামি করে মতিহার থানায় মামলা দায়ের করেন নিহতের বড়ভাই আসাদ বুলবুল। মামলার আসামিরা হলেন, নিহত বিপ্লবের সাবেক শ্বশুর হাবিবুর রহমান (৫০), হাবিবুরের ছেলে রনি আহমেদ (২৮) ও তাদের প্রতিবেশী সাইদুর রহমান (৪০)।
শনিবার (০৪ মার্চ) বিকালে খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার ও তাদের ফাঁসির দাবিতে লাশ নিয়ে নগরীর কাজলা এলাকায় রাজশাহী-নাটোর মহাসড়ক আধাঘণ্টা অবরোধ করে রাখে এলাকাবাসী। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
/এআর/








