গোপন ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ করার অভিযোগে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার এক স্কুল শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার অসদাচরণের দায়ে রুজু করা বিভাগীয় মামলার শুনানিতে গোপন ক্যামেরা নিয়ে অংশ নেন তিনি। এরপর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিইও) ওইদিনই তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের নির্দেশ দিয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে চিঠি পাঠিয়েছেন।
জানা গেছে, অসদাচরণের দায়ে রুজু করা একটি বিভাগীয় মামলার শুনানিতে মঙ্গলবার বিকেলে অংশ নেয় ক্ষেতলালের হিন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও ক্ষেতলাল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবর রহমান। তার শুনানি করছিলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বদরুজ্জেহা। শুনানি শেষে তার লিখিত বক্তব্যে স্বাক্ষর করার জন্য পকেটে কলম রেখেও ওই শিক্ষক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে কলম চান। এতে সন্দেহ হয় জেলা কর্মকর্তার। তিনি ওই শিক্ষকের কাছে জানতে চান পকেটে কলম রেখেও কলম চাচ্ছেন কেন। মাহবুবর রহমান জানান, তার কলম কালো লিখে না। তখন কলমটি নিয়ে কম্পিউটারে দিয়ে তিনি বুঝতে পারেন এটি আসলে গোপন ক্যামেরা। যা দিয়ে ওই শিক্ষক শুনানির পুরো অংশ গোপনে ভিডিও করেছেন। এটি জানার পর ওই কর্মকর্তাতে বসতে বললে শিক্ষক মাহবুবর রহমান অফিস থেকে বের হয়ে তার মোটরসাইকেল ফেলে দৌড় দিয়ে পালিয়ে যান।
অভিযুক্ত প্রাথমিক শিক্ষক মাহবুবর রহমান বলেন,‘আসলে কলমাকৃতির ওই ক্যামেরা শুনানির দিনই আমি কুরিয়ারের মাধ্যমে কিনে নিয়ে পকেটে রেখে শুনানিতে অংশ নিয়েছি। কি রকম রেকর্ড হয় তা দেখার জন্য সুইচ অন করে পকেটে রেখেছি। এটা আমার মস্ত বড় ভুল হয়েছে। আমি এর জন্য ক্ষমাও চেয়েছি।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বদরুজ্জেহা জানান, প্রতিটি শিক্ষককে তার চাকরিবিধি মেনে চলার পাশাপাশি নীতি নৈতিকতার মধ্যে চলা উচিৎ। কিন্তু মাহবুবর রহমান সেদিক থেকে পুরো আলাদা। তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।
/এমডিপি/








