রাজশাহীতে চার জঙ্গি ও জামায়াত-শিবিরের চার কর্মীসহ ৪৫ জনকে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের রবিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাঘা, বাগমারা ও পবা থানার ওসি এবং সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতেখায়ের আলম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রবিবার সন্ধ্যায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন (জেএমবি) তালিকাভুক্ত সদস্য আব্দুল আউয়াল (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানার বাকবকুল গ্রামের মৃত্যু আজিজুল ব্যাপারির ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলী মাহমুদ জানান, রবিবার সন্ধ্যায় বাঘা উপজেলার আড়ানী বাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
এছাড়া রবিবার ভোরে রাজশাহীর বাগমারা ও পবা থানা পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে তিন জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে। তাদের মধ্যে একজন জেএমবি ও দুইজন হিযবুত তাহরীর সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, বাগমারা উপজেলার ঝিকড়া ইউনিয়নের গুনিয়াডাঙ্গা গ্রামের আনিছুর রহমানের ছেলে জেএমবি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক (৩০), পবা উপজেলার নওহাটা পৌরসভার নতুন পাড়ার শফিকুল ইসলাম খানের ছেলে হিযবুত তাহরীর সদস্য আরিফুল ইসলাম সদয় (২৩) ও শাহপাড়ার গোলাম মোস্তফার ছেলে হিযবুত তাহরীর সদস্য মানসুর রহমান (২৫)।
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছিম আহমেদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার ভোরে গুনিয়াডাঙ্গা গ্রামের অভিযান চালিয়ে রাজ্জাককে গ্রেফতার করা হয়। সে পুলিশের তালিকাভুক্ত জেএমবি সদস্য। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। রাজ্জাক ২০০৪ সালে বাংলাভাইয়ের মাধ্যমে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ জেএমবিতে যোগ দেন ।
পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিমাল কুমার চক্রবতী জানান, আরিফুল ও মানসুর নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর সদস্য। এলাকায় তারা দুইজনে জঙ্গি কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিল এমন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার রাত ৩টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। রবিবার বিকেলে তাদের আদালতে নেওয়া হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য সাতদিন করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
ওসি জানায়, আরিফুল ও মানসুরের বিরুদ্ধে রাজধানী ঢাকার পল্টন থানায় একটি একটি করে দুইটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবিরোধী আইনে এবং অপরটি পুলিশের ওপর হামলা। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে পবা থানায়ও সন্ত্রাস ও জঙ্গিবিরোধী মামলা রয়েছে।
এদিকে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতেখায়ের আলম জানান, বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জামায়াত-শিবিরের চারকর্মীসহ বিভিন্ন অপরাধে ৪১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেই সাথে অভিযানে বেশকিছু পরিমাণ মাদকদ্রব্যও উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানা ১৪ জন, রাজপাড়া থানায় ৯ জন, মতিহার থানায় ৮ জন, শাহমখদুম থানায় ৫ জন এবং মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ৫ জনকে আটক করেছে। তাদের মধ্যে ১৫ জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, ৪ জন মাদক ব্যবসায়ী, ১৮ জন অন্য মামলার আসামি এবং ৪ জন জামায়াত-শিবিরের কর্মী। এরমধ্যে বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ নূর মোহাম্মদ ওরফে তমাল (২৩) নামে এক শিবির কর্মী, রাজপাড়া থানা আবদুল মালেক (৪৫) নামে এক জামায়াত কর্মী এবং মতিহার থানা পুলিশ রতন আলী (৩০) নামে এক শিবির কর্মী ও মোয়াজ্জেম হোসেন (৩৯) নামে এক জামায়াত কর্মীকে গ্রেফতার করে।
এর আগে, শনিবার (১১ মার্চ) বাগমারায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন, উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার মকবুল হোসেনের ছেলে রহিদুল ইসলাম (৪৩), গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে আবুল হোসেন (৫৫), ছমির উদ্দীনের ছেলে আব্দুস সাত্তার (২৮), মৃত জাবের আলীর ছেলে আব্দুল মান্নান (৪৫) ও উদপাড়া গ্রামের নাছির উদ্দীনের ছেলে লুৎফর রহমান (৪৮)।
এছাড়াও শুক্রবার (১০ মার্চ) ভোরে রাজশাহীর বাগমারায় জেএমবির এক সদস্য আবদুর রশিদকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি জেএমবির শীর্ষ নেতা সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলাভাইয়ের মাধ্যমে জেএমবিতে যোগ দিয়েছিলেন।
/জেবি/








