বগুড়া সদরের শেখেরখোলা ইউনিয়নের সামুঞ্জা খালে প্রভাবশালীরা শ্যালো মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করছে। এতে খালের ওপরের সেতু ও আশপাশের অন্তত দেড় হাজার বিঘা ফসলি জমি হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। এলাকাবাসী ফসলি জমি, বাড়িঘর ও সেতু রক্ষায় সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
শেখেরকোলা গ্রামের ইয়ার আলী মণ্ডল, জিল্লার রহমান, মিনহাজ উদ্দিন, আবদুল জলিল, আবদুল খালেকসহ শতাধিক গ্রামবাসী অভিযোগ করেন, প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় শাখারিয়া গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে মাহফুজার রহমান, ভুট্টো মিয়া ও রঞ্জু মিয়া, একই গ্রামের শফিকুল ইসলাম ও ঠেঙ্গামারা গ্রামের নজরুল ইসলাম সামুঞ্জা খালে শ্যালো মেশিন (ড্রেজার) বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করছেন। খালের গভীর থেকে বালু তোলায় চারপাশে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। খালের তীরবর্তী অন্তত দেড় হাজার বিঘা ফসলি জমি ও বাড়িঘর হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়া প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আরসিসি সামুঞ্জা সেতুটিও ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও ক্ষয়ক্ষতি বন্ধে প্রথমে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রভাবশালীদের তদবিরে তা থেমে যায়। পরে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার মেলেনি। নিজেদের জমি, বাড়িঘর ও রাস্তা রক্ষায় এলাকাবাসীরা ট্রাকে বালু পরিবহণ বন্ধে রাস্তা কেটে দেন।
বালু উত্তোলনে অভিযুক্ত মাহফুজার রহমান, ভুট্টো মিয়া ও রঞ্জু মিয়ারা জানান, তারা নিজেদের কেনা জমি থেকে বালু তুলছেন। এতে কারও ক্ষতি হবার কথা নয় বরং এলাকাবাসীরা রাস্তা কেটে তাদের বালু পরিবহণে বাধা দিচ্ছে।
সামুঞ্জা খালে শ্যালো মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন প্রসঙ্গে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাম্মৎ আক্তারুন্নাহার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। শিগগিরই সামুঞ্জা খাল থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপর কেউ বালু উত্তোলনের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
/এমও/








