বগুড়ার ধুনটে মারধর ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের পাঁচ নেতাসহ আটজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। ধুনট উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মাসুদুল হক বাচ্চু শনিবার (১ এপ্রিল) রাতে থানায় এ মামলা করেন।
মামলা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১২ মার্চ থেকে ধুনট এনইউ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় এনজিও ‘বাতিঘরের’ উদ্যোগে মাসব্যাপী স্বাধীনতা মেলার আয়োজন করা হয়। মেলায় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পণ্যের স্টলসহ শিশু-কিশোরদের বিনোদন, শিক্ষার্থীদের মেধা প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও র্যা ফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল।
স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েক নেতা জানান, মেলা শুরুর আগে থেকেই আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা দুই ভাগে বিভক্ত হন। গত ২৭ মার্চ বিকালে স্বাধীনতা মেলার লটারি বন্ধের দাবিতে মিছিল করার জন্য উপজেলা পরিষদ সড়কের আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগের একাংশের নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। এ সময় স্বাধীনতা মেলার পক্ষে আওয়ামী লীগের অপর অংশের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিলে দুইপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পরে ধুনট বাজারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ ঘটনায় শনিবার রাতে মেলা উদযাপন কমিটির কোষাধ্যক্ষ উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মাসুদুল হক বাচ্চু বাদী হয়ে চিকাশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলেফ বাদশাহ্, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আলম শ্যামল, পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক চপল মাহমুদ, আওয়ামী লীগ নেতা হাসান খসরু খান নূপুর ও পাখি মণ্ডলসহ আটজনের বিরুদ্ধে ধুনট থানায় মামলা করেন।
আওয়ামী লীগ নেতা মাসুদুল হক বাচ্চু অভিযোগ করে বলেন, এলাকায় বিনোদনের জন্য এক মাসের অনুমোদন নিয়ে স্বাধীনতা মেলা শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু পরীক্ষার কারণে ১০ দিন আগেই মেলা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু মেলা শুরু পর থেকেই আওয়ামী লীগ নেতা আলেফ বাদশাসহ কয়েকজন তার কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। তাদের দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় তারা আমাকেসহ ছাত্রলীগের কয়েক নেতাকে মারধর করে। তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
তবে মারধর ও চাঁদাবাজির বিষয়টি অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ নেতা আলেপ বাদশা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতা মাসুদুল হক বাচ্চুসহ কয়েক নেতা স্বাধীনতা মেলার নামে কোটি টাকার লটারি বাণিজ্য শুরু করেছিল। এর প্রতিবাদ করায় বাচ্চুর লোকজন আমাকেসহ নেতাকর্মীদের মারধর করেছে।
ধুনট থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, মারধর ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আটজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
/এআর/








