পূর্ব শত্রুতার জেরে আওয়ামী লীগ নেতা জহুরুল ইসলামের নির্দেশেই পৌর যুবদল নেতা হযরত আলীকে খুন করা হয়েছে বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন হত্যা মামলায় গ্রেফতার আসামি শাওন। আদালতে তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতা ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জহিরুল ইসলামের নির্দেশেই ৭-৮ সন্ত্রাসী মিলে চাপাতি ও কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হযরত আলীকে হত্যা করে।’ মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামরুজ্জামানের আদালতে তিনি এই কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-শহর ফাঁড়ির টিএসআই আজিজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে সোমবার রাতে বগুড়া শহরের মোস্তাফাবিয়া মাদ্রাসার কাছ থেকে সুলতানগঞ্জপাড়ার শাওনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে শাওন বলেন, ‘গত পৌর নির্বাচনে প্রচারণার সময় যুবদল নেতা হযরত আলী প্রতিদ্বন্দ্বী কাউন্সিলর-প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা জহুরুল ইসলামের হাত কেটে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। তখন জহুরুলও পাল্টা হুমকি দিয়েছেন। নির্বাচনে জহুরুল জয়লাভ করার পর থেকে তাদের বিরোধ তুঙ্গে ওঠে। হযরত আলী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কিছুদিন শহরের ঠনঠনিয়া এলাকায় আত্মগোপনে থাকেন। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক ভেবে বাড়িতে ফিরে এসে বালুর ব্যবসা শুরু করেন। এ সময় হযরত আলী কাউন্সিলর জহুরুল ইসলামের বিভিন্ন কাজে বাধা দিতেন। এতে কাউন্সিলর ক্ষিপ্ত হয়ে হযরতকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। ঘটনার দিনে রবিবার সকাল ১০টার দিকে জহুরুল কয়েকজন সন্ত্রাসীকে নিয়ে তার নিশিন্দারা মণ্ডলপাড়ার বাড়িতে বৈঠক করেন। সেখানে হযরতকে হত্যার নির্দেশ দেন তিনি। পরিকল্পনা অনুসারে বেলা ১টার দিকে পালশার সুজন একই এলাকার বাড়ি থেকে হযরতকে ডেকে ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ের সামনে নিয়ে আসে। এ সময় সুজনসহ ৭-৮ সন্ত্রাসী চাপাতি ও কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হযরত আলীকে হত্যা করে।’
তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-শহর ফাঁড়ির টিএসআই আজিজুর রহমান আরও জানান, আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিদাতা শাওনকে জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে। মূল আসামিসহ অন্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
উল্লেখ্য, বগুড়ার নিশিন্দারা মণ্ডলপাড়ার মৃত আবদুস সাত্তারের ছেলে যুবদল নেতা হযরত আলী বালুর ব্যবসা করতেন। একটি হত্যা মামলায় জেলে যাওয়ার পর ২০ দিন আগে জামিনে ছাড়া পান। গত রবিবার (১৬ এপ্রিল) বেলা সোয়া ১টার দিকে তিনি মোটরসাইকেলে বাড়ির কাছে ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ের সামনে পৌঁছেলে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করে। ঘটনার পরপরই নিহতের স্ত্রী সাথী খাতুন দাবি করেন, কাউন্সিলর জহুরুল ইসলাম তার স্বামীকে হত্যা করেছেন। পরদিন মা মেরিনা বেগম সদর থানায় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত কাউন্সিলর জহুরুল ইসলামসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
আরও পড়ুন: বগুড়ায় প্রকাশ্যে ওয়ার্ড যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
/এমএনএইচ/.








