রাজশাহীর গোদাগাড়ির বেণীপুর গ্রামে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান শুরুর অপেক্ষায় আছে পুলিশ। ঢাকা থেকে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেই মূল অভিযান শুরু হবে। গোদাগাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিফজুর আলম মুন্সী বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও সিআইডির ক্রাইম সিনের সদস্যরা আস্তানার কাছে উপস্থিত আছেন। গোদাগাড়ির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ নেওয়াজও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার ভোরে বাড়ির ভেতরে পাঁচ জঙ্গি আত্মঘাতী হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তারা সবাই একই পরিবারের। এদিকে বিস্ফোরণের সময় আহত ফায়ার সার্ভিসের কর্মী আবদুল মতিন হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা গেছেন।
নিহত আবদুল মতিনের বাড়ি গোদাগাড়ির মাটিকাটা ইউনিয়নেই। জঙ্গিদের ঘটানো বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন রাজশাহী সদরের এএসপি সুমিত চৌধুরী, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এএসআই উৎপল ও জেলা পুলিশের কনস্টেবল তাইজুলসহ চার পুলিশ। ওই বাড়ি থেকে দুটি শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। আস্তানা থেকে নারী আত্মসমর্পণ করেছেন। জনসাধারণের চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ মে) ভোর থেকে ওই বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়েছে। সকাল পৌনে ৮টার দিকে ওই আস্তানায় শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ রাজশাহীর পুলিশকে এই জঙ্গি আস্তানার বিষয়ে তথ্য দেয়। পুলিশ বাড়িটি ঘেরাও করতে গেলে ভেতর থেকে জঙ্গিরা হামলার চেষ্টা করে।
জানা গেছে, গোদাগাড়ির আস্তানায় নিহতরা হলেন সাজ্জাদ, তার স্ত্রী বেলি, ছেলে আল আমিন, সোহেল ও মেয়ে কারিমা।
মাটিকাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী আজম তৌহিদ জানান, পাঁচ মাস আগে সাজ্জাদের জামাতা জহুরুল ইসলামকে নাশকতার মামলায় জেএমবি সদস্য হিসেবে গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি আরও জানান, ওই পরিবারটি জামায়াতপন্থী।
ধানক্ষেতের মাঝখানে টিনের ওই বাড়িটির আশপাশের আর কোনও ঘরবাড়ি নেই। এক মাস আগেই বাড়িটি বানিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা দারুল হুদা এই তথ্য জানান।
/এফএস/
আরও পড়ুন-








