যমুনা নদীর পানি সোমাবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বিপদ সীমার ৩৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি চার সেন্টিমিটার বেড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, সিরাজগঞ্জের পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ (পওর)।পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি ও যমুনার পশ্চিম পাড়ে ভাঙনের কিছুটা অবনতি হয়েছে।
পওর দেওয়া তথ্যানুযায়ী রবিবার বিকেল থেকে সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত যমুনার পানি একই মাত্রায় ছিল। কিন্তু সোমবার বিকেল ৩টার পর থেকে তা বাড়তে শুরু করে। কাজিপুর উপজেলার মাইজবাড়ির বিলচতল ও ঢেঁকুরিয়ায় বন্যায় প্লাবিত এবং মাছুয়াকান্দির ভাঙনকবলিতরা পাউবোর বাঁধে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। কাজিপুরের শুভগাছা ও সদরের বাহুকার লোকজনও পাউবোর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে উঠে আসতে শুরু করেছে। ঢেঁকুরিয়া হাঁটে বন্যার পানি আসতে শুরু করায়, বাঁধের ওপর অস্থায়ী দোকানপাট বসতে শুরু করেছে।
জেলা সদর, কাজিপুর, চৌহালী, বেলকুচি ও শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লালিত হয়েছে। ওই সব উপজেলায় ৩ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান জেলার ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম।
বন্যা উপদ্রুত এলাকায় কি পরিমাণ মানুষ পানিবন্দি, রাস্তাঘাট বা কৃষি জমি প্লাবিত হয়েছে এবং কতজন উচু বাঁধ আছে, কোনও আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে কিনা? সাংবাদিকদের এসব পশ্নের তিনি কোনও উত্তর দিতে পারেননি।
এর উত্তরে তিনি জানান, স্ব স্ব উপজেলা থেকে তথ্য পেতে বিলম্ব হচ্ছে।
অন্যদিকে, পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সদর উপজেলার বাহুকা ও কাজিপুর উপজেলার মাছুকান্দিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। রবিবার রাত ১০টা থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত কাজিপুরের মাছুয়াকান্দিতে পাউবোর ৩ নং ক্রসবার স্পারের প্রায় ১শ’ মিটার অংশ নদী গর্ভে চলে গেছে। এর ফলে ১০/১২টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, সদরের বাহুকায় যমুনার পশ্চিম পাড়ে সোমবার সকাল থেকে থেমে থেমে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দীকা সোমবার সকালে জেলা সদরের সয়দাবাদ এবং কাজিপুর উপজেলার শুভগাছা ইউনিয়নে প্রায় সাড়ে পাঁচশ’ বন্যার্ত ও ভাঙন কবলিতের মধ্যে চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ করছেন।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন: দায়িত্ব নিলেন জাবির নতুন উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ








