নাশকতা মামলার আসামি হলেন ইউপি আ.লীগ সভাপতি

বগুড়া প্রতিনিধি
২৬ জুলাই ২০১৭, ১৯:১৪আপডেট : ২৬ জুলাই ২০১৭, ১৯:১৪

শরিফুল ইসলাম সাজু বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি থেকে আসা একাধিক নাশকতা মামলার আসামি শরিফুল ইসলাম সাজু। এতে বঞ্চিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ এবং হতাশার সৃষ্টি হলেও প্রভাবশালীদের ভয়ে তারা মুখ ‍খুলছেন না। তাই তারা এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জানা গেছে, সাজু প্রভাবশালী নেতাদের অনুপ্রেরণায় দিগদাইড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সাজু সভাপতি প্রার্থী হন। গত ১৬ জুলাই অপর সভাপতি প্রার্থী একেএম জাহাঙ্গীর আলম এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা নির্বাচনের চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু জিয়াউল করিম শ্যাম্পুর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগে সাজুর বিরুদ্ধে দুটি নাশকতার মামলার কথা উল্লেখ এবং সংগঠনে নেওয়ার ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর চেয়ারম্যান সাজু প্রার্থিতা স্থগিত করলেও ১৮ জুলাই সকালে অজ্ঞাত কারণে আবার বহাল করেন। ২১ জুলাই সম্মেলনে সাজু সভাপতি নির্বাচিত হন।

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আবু জিয়াউল করিম শ্যাম্পু জানান, সাজু তিন বছর আগে সংগঠনে এসেছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ বা মামলা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। দলের গঠনতন্ত্র অনুসারে তাকে নির্বাচন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এখানে আর্থিক লেনদেন বা ঊর্ধ্বতন নেতাদের তদবিরের কোনও ঘটনা ঘটেনি।

নব-নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম বলেন, ‘নাশকতার মামলার চিহ্নিত আসামি সাজু প্রভাবশালী নেতাদের হস্তক্ষেপে এক বছরের কিছু বেশি সময় আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এসেছেন। কাউন্সিলররা ভোট দিয়ে তাকে নির্বাচিত করেছেন; তাই এখানে তার চাওয়া না চাওয়ায় কিছু আসে যায় না।’

জানা গেছে, সোনাতলা উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়নের মাদারীপাড়া গ্রামের আবদুল গফুর মেম্বরের ছেলে শরিফুল ইসলাম সাজু বিএনপির সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ২০১৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সোনাতলা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহজাহান আলী খন্দকার ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নবীন আনোয়ার কমরেড সোনাতলা থানায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির ও সাজুসহ সোয়া শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পৃথক নাশকতার মামলা (নং-০৫/১৫ ও ০৬/১৫) করেন। দুটি মামলাই বিচারাধীন রয়েছে। জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতা এবং দলীয় প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিরা এক বছর আগে অজ্ঞাত কারণে সাজুকে আওয়ামী লীগে যোগদান করে নেন। এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে, বিএনপি কর্মী সাজু মামলা থেকে বাঁচতে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করার সুযোগ পান।

সোনাতলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির জানান, সাজু তার সংগঠনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের দু’টি নাশকতার মামলা এখনও চলমান। এরপরও আওয়ামী লীগ তাকে সংগঠনে নিলে তার কিছুই বলার নেই।

এ বিষয়ে জানতে শরিফুল ইসলাম সাজুর মোবাইলে ফোন দেওয়া হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।

/বিএল/ 

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম