সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে বুধবার (২ আগস্ট) বেড়াতে এসে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে বগুড়ার শেরপুর থেকে আসা এক তরুণী। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) নির্যাতনের শিকার ওই তরুণী কাজিপুর থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৪ জনসহ মোট ১০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলা দায়েরের পর ওইদিন সন্ধ্যায় ছাত্রলীগের ২ নেতাসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- কাজিপুর উপজেলার নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়নের বিল সুন্দর গ্রামের বাসিন্দা আজিজুর রহমানের ছেলে জেলা ও ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সোহেল রানা শান্ত (২৬), কাজিপুর উপজেলার উত্তর রেহাই শুড়িবের গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে ও নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম ডন (৩২), তাদের সহযোগী কাজিপুরের চর-গিরিশ গ্রামের হযরত আলীর ছেলে মো. ফরহাদ হোসেন (২০), মো. আমির উদ্দিনের ছেলে নুর মোহাম্মদ (১৮), মৃত নেজাব শেখের ছেলে মো. মুকুল হোসেন (২৭) এবং আব্দুল হামিদের ছেলে মো. আলামিন হোসেন (২৫)।
এদিকে এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলে বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সোহেল ও নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আশরাফুলকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা হয়। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাকিরুল ইসলাম লিমন এ তথ্য জানান।
কাজিপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিয়ারুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বুধবার (২ আগস্ট) বিকালে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার চর-হামছাপুর গ্রামের এক তরুণী তার বন্ধুর সঙ্গে কাজিপুর উপজেলার নাটুয়ারপাড়া চরে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। তারা সন্ধ্যার দিকে একটি নৌকা নিয়ে যমুনার চরে যান। রাত ৮টার দিকে নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়নের রেহাইশুড়িবের গ্রামের কালিতাপুর চরে পৌঁছালে অভিযুক্তরা তাদেরকে থামায়। একসঙ্গে ঘুরতে দেখে তারা তরুণ-তরুণীর কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। একপর্যায়ে বিকাশের মাধ্যমে তাদেরকে ৩ হাজার টাকা দেওয়া হয়। দাবিকৃত বাকি টাকা দিতে না পারায় তাদের ধরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে নিয়ে যাবে বলে তাদের টানাহেঁচরা করা হয়। একপর্যায়ে চরের মধ্যে ছেলেটিকে আটকে রেখে নৌকার ওপর তরুণীকে তারা ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় মেয়েটির চিৎকারে চরের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা নৌকা নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা মেয়েটি ও তার বন্ধুকে উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় পরদিন সকালে মামলা হলে পুলিশ ৬ জনকে গ্রেফতার করে। বাকিদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কাজিপুর থানার ওসি সোমিত কুমার কুণ্ডু বলেন, ‘মেয়েটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে মামলা হওয়ার পর ৬ জনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে রাতে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে কে ছাত্রলীগের নেতা বা কে কর্মী তা জানে না পুলিশ। পুলিশ বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত করছে। অজ্ঞাতদের গ্রেফতারের বিষয়ে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
/এআর/








