ভারত থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় রাজশাহীর বাজারে পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছিল। কিন্তু দুইদিন ধরে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় আবার পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। এভাবে সরবরাহ থাকলে পেঁয়াজের মূল্য ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে থাকবে বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা।
রাজশাহী নগরীর মাস্টার পাড়া এলাকায় ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি। এদের একজন হলেন শফিক উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘রবিবার থেকে পেঁয়াজের মূল্য কমতে শুরু করেছে। আজ সোমবার পাইকারি ৩০ টাকা কেজি মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করা হয়েছে। এর আগের দিন রবিবার ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।’
গত কয়েক দিন ধরে পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি প্রসঙ্গে শফিক উদ্দিন বলেন, ‘ভারত থেকে ঠিকমতো পেঁয়াজ সরবরাহ করা হতো না। এতে করে চাহিদার তুলনায় আমরা খুচরা বিক্রেতাদের পেঁয়াজ ঠিকমতো সরবরাহ করতে পারতাম না। রাজশাহীতে প্রতিদিন পাঁচ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। এক ট্রাকে ১৫ টন করে পেঁয়াজ নিয়ে আসা হয়। তাই ভারতের কারণে পেঁয়াজের দাম বেড়েছিল। তবে কয়েক দিনের মধ্যে সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের মহারাষ্ট্রে কৃষক বিক্ষোভ হয়েছিল। এসময় তাদের সরকার এই রাজ্যের সব কৃষকদের কাছ থেকে পেঁয়াজ কিনে নিয়েছিল। কিন্তু ঠিকমতো ভারত সরকার রক্ষণাবেক্ষণ করতে না পারায় পেঁয়াজ পচে গিয়েছিল। আর এই পচে যাওয়ার কারণে মহারাষ্ট্রে পেঁয়াজ সংকট তৈরি হয়। আর সে সংকট কাটিয়ে উঠতে ভারতের অন্য রাজ্যে থেকে মহারাষ্ট্রে পেঁয়াজ পাঠানো হয়। এ কারণে তারা বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি ঠিকমতো করতো না।’
নগরীর সাহেব বাজার কাঁচা বাজারের খুচরা বিক্রেতা মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ‘এই সময় পেঁয়াজসহ অন্য কাঁচা বাজারের দাম বাড়ে। কারণ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা দেখা দেয়। এতে করে অন্য অঞ্চলের পাইকাররা রাজশাহী থেকে পেঁয়াজসহ অন্য কাঁচা মাল কিনে নিয়ে যান। তখন রাজশাহীর বাজারে কাঁচা মাল পণ্যের সরবরাহ কমে যায়। তবে দুই দিন ধরে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। কোরবানি ঈদের আগে আবার বাড়তে পারে।’
কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি পেঁয়াজ কেনেন নগরীর বাইপাস এলাকার মুঞ্জুর রহমান। তিনি বলেন, দেশি পেঁয়াজ ৩২-৩৩ টাকা কেজি দরে ক্রয় করে ৪০-৪৫ টাকা দরে খুচরা বিক্রেতাদের কাছ বিক্রি করি। কৃষকরা ক্ষেত থেকে উঠানোর পর পেঁয়াজ ঘরে রেখে ধাপে ধাপে বিক্রি করে থাকেন।
নগরীর দড়িখড়বোনা এলাকার ভাই ভাই স্টোরের মালিক তসলিম উদ্দিন বলেন, আজকে (সোমবার) দেশি পেঁয়াজ ৫৫ টাকা ও ভারতের পেঁয়াজ ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। অথচ ২০ দিন আগে দেশি পেঁয়াজ ৩৫ টাকা ও ভারতের পেঁয়াজ ১৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছিলাম।
/এআর/








