বগুড়ায় পৌর পরিষদের অনুমোদন ছাড়াই কাউন্সিলরা ২১ ওয়ার্ডের ৭০ হাজার বাড়িতে ‘নেমপ্লেট’ লাগিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে, বলে অভিযোগ উঠেছে। ২০-২৫ টাকায় তৈরি করা নেমপ্লেট বাড়িতে লাগিয়ে ১৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত পৌর কাউন্সিলরের উদ্যোগে এ কাজ শুরু হয়েছে এবং আদায়ের সিংহভাগ কাউন্সিলরদের পকেটে যাচ্ছে। তবে অধিকাংশ কাউন্সিলর টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট এ কে এম মাহবুবর রহমান জানান, পৌরসভার ২১ ওয়ার্ডে ৭০ হাজার হোল্ডিং রয়েছে। এর বাইরেও অনেক বাড়ি আছে। কিছুদিন আগে কয়েকজন কাউন্সিলর বাড়িগুলোতে প্লেট লাগানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু পৌর এলাকাগুলোর রাস্তার নামকরণ ও নম্বর না হওয়ায় তিনি এতে রাজি হননি। পরবর্তীতে কাউন্সিলররা নিজ দায়িত্বে ব্যবসা করতে বাড়ি, বাড়ি প্লেট লাগাচ্ছেন। এতে তাদের বাণিজ্য হলেও পৌরসভা কোনও রাজস্ব পাচ্ছে না।
বগুড়ার পৌরসভা সূত্র জানায়, পৌরসভার ২১ ওয়ার্ডে ২১ জন কাউন্সিলর ও ৭টি সংরক্ষিত আসনে ৭জন নারী কাউন্সিলর রয়েছেন। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত ১২ জন অন্যরা জামায়াত-বিএনপির। গত ৫-৬ মাস আগে ক্ষমতাসীন দলের কাউন্সিলররা ২১ ওয়ার্ডের ৭০ হাজার হোল্ডিং নম্বরসহ লক্ষাধিক বাড়িতে নেমপ্লেট লাগানোর পরিকল্পনা করেন। মেয়র মাহবুবুর রহমান তাদের প্রস্তাবে সারা দেননি। এ সত্ত্বেও ১, ২, ৪, ৫, ৮, ১৫ ও ১৭ নম্বরসহ কয়েকটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরা তাদের পছন্দের লোকজনের মাধ্যমে নিজেদের ছবিসহ রঙিন নেমপ্লেট তৈরি করে। এরপর কাউন্সিলরের লোকজন বাড়ি-বাড়ি গিয়ে বাধ্যতামূলক ১৫০ টাকা নিয়ে নিজেরাই প্লেট লাগিয়ে দিচ্ছে।
বগুড়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর সৈয়দ সার্জিল আহমেদ টিপু জানান, পৌরসভার ঠিকাদার যুবলীগ নেতা শামীম তার ওয়ার্ডে প্লেট লাগানোর কাজ করছেন। কিন্তু তিনি বিনিময়ে কোনও টাকা নেননি। শুধু দক্ষিণ আটাপাড়া মসজিদের উন্নয়নের জন্য ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন।
তবে একথা অস্বীকার করে ঠিকাদার শামীম দাবি করেন, তিনি নয়, ১ নম্বর ওয়ার্ডে শানু নামে একজন কাজ করছেন। ১৫০ করে নেওয়া হলেও নেমপ্লেট তৈরি, লাগানো ও মাইকিংসহ বিভিন্ন খাতে অধিকাংশ টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে।
২ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর তৌহিদুল ইসলাম বিটু জানান, তার ওয়ার্ডে কোনও প্লেট লাগানো হচ্ছে না। ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর তরুণ কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘ওয়ার্ডবাসীর বাড়তি কোনও খরচ হোক এ আমি চাই না। তাই প্লেট লাগানোর প্রস্তাব আগেই প্রত্যাখ্যান করেছি।’ একই মন্তব্য করেছেন, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপির কাউন্সিলর এসএম মোরশেদ মিটন।
৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিএনপি নেতা সৈয়দ আনোয়ারুল ইসলাম বাবলা বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডে কিছু প্লেট লাগানো হয়েছে। পরবর্তীতে আমি অনুমোদনহীন প্লেট লাগানো বন্ধ করে দিয়েছি।’
১৫ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম জানান, তার ওয়ার্ডে কিছু প্লেট লাগানোর পর বন্ধ করে দিয়েছেন।
৬ নম্বর সংরক্ষিত আসনের (১৬, ১৭ ও ১৮ ওয়ার্ড) কাউন্সিলর সুবর্ণা আকতার মুক্তি জানান, তার ওয়ার্ডে প্লেট লাগানোর কাজ চলছে। তিনি এ খাত থেকে কোনও টাকা নিচ্ছেন না। তবে প্লেটে রঙিন ছবি থাকায় তার প্রচার হচ্ছে। এছাড়া ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সচিব আখের আলী জানান, তারা প্রতি প্লেটের বিনিময়ে ১০০ টাকা করে নিচ্ছেন।
বগুড়া পৌরসভার ১ নম্বর সংরক্ষিত আসনের সাবেক কাউন্সিলর জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক ডালিয়া নাসরিন রিক্তা জানান, কাউন্সিলররা অন্যায়ভাবে ১৫০ টাকার বিনিময়ে বাড়ি বাড়ি নেমপ্লেট লাগাচ্ছেন। তিনি এসব প্লেট লাগানো বন্ধ করতে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
/এমও/








