পুলিশ হেফাজতে বিএনপি নেতার মৃত্যু: চার পুলিশসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বগুড়া প্রতিনিধি
২৮ আগস্ট ২০১৭, ২৩:২৭আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০১৭, ২৩:৩২

বগুড়া বগুড়ার শাজাহানপুরের শাবরুল গ্রামে পুলিশ হেফাজতে আশেকপুর ইউনিয়নের সাবেক সদস্য ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মাসুদুল হক পিন্টুর (৪৮) মৃত্যুর ঘটনায় চার পুলিশসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সোমবার (২৮ আগস্ট) নিহতের স্ত্রী খায়রুন্নেছা বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা (নং-২১০সি) করেন। এজাহারে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪/১০৯ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় আসামি করা হয়েছে শাবরুল গ্রামের মৃত একরাম হোসেনের ছেলে এনামুল হক মিল্টন ও নিউটন, মৃত মোতাহার আলীর ছেলে ইনসান আলী, মৃত আফতাব উদ্দিনের ছেলে আবদুর রাজ্জাক, মৃত আবদুল কাইয়ুমের ছেলে আইয়ুব আলী ও তাহের আলী, সামসুল হকের ছেলে ওয়াহেদ প্রামাণিক, লিয়াকত আলীর ছেলে জনি, কৈগাড়ি ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আনিসুর রহমান, এসআই রফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল আজিবুল ইসলাম ও সাহেদ আলী।

বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন, স্বামী পিন্টুর সঙ্গে প্রতিপক্ষ মিল্টন ও নিউটনদের পুকুর ও জমি-জমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছিল। এ বিরোধের জের ধরে মিল্টন গত ১৯ আগস্ট শাজাহানপুর থানায় তার স্বামীর তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা (নং-১৯) করেন। গত ২২ আগস্ট বেলা পৌণে ৩টার দিকে কৈগাড়ী ফাঁড়ির ইনচার্জ আসিুর রহমানসহ ৪ পুলিশ অন্য আসামিদের সঙ্গে নিয়ে পিন্টুর বসতবাড়িতে প্রবেশ ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এ সময় পিন্টু এগিয়ে এলে পুলিশ ও আসামিরা তাকে বেধড়ক মারধর করে। পরে তারা পিন্টুর মৃত্যুর দায় এড়াতে সিএনজি অটোটেম্পুতে করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে চিকিৎসকরা তার স্বামীকে মৃত ঘোষণা করেন। সেখানে আত্মীয়-স্বজন ছাড়াই পুলিশি প্রহরায় পিন্টুর লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়। পরদিন পুলিশি তত্ত্বাবধানে ময়নাতদন্ত করা হয়ছে। এরপর কাগজে কলমে লাশ স্বজনদের হাতে হস্তান্তর দেখানো হলেও পুলিশি প্রহরায় লাশের দাফন করা হয়েছে।

নিহত পিন্টুর স্ত্রী, সন্তান ও তার ভাইয়েরা জানান, আসামিরা হত্যার হুমকি-ধামকি দেওয়ায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট স্বপন কুমার সাহা জানান, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আবু রায়হানের কাছে মামলার ফাইল জমা হয়েছে। আদালত মঙ্গলবার তার সিদ্ধান্ত জানাবেন।

/এআর/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
শুরু হচ্ছে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ড্রেস ও জুতা বিতরণ
শুরু হচ্ছে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ড্রেস ও জুতা বিতরণ
সেই কুমির ফেরত চান মাজারের খাদেম যুবদল নেতা
সেই কুমির ফেরত চান মাজারের খাদেম যুবদল নেতা
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
ট্রাম্পকে বড় ধাক্কা: মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাস
ট্রাম্পকে বড় ধাক্কা: মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাস