বগুড়া শহরের নারুলী এলাকা থেকে হারিয়ে যাওয়া তিন স্কুলছাত্রকে উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (৮ নভেম্বর) সকালে ওই এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর রাতেই তাদের গাবতলী থেকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার শিশুরা হলো, বগুড়া শহরের নারুলী দক্ষিণপাড়ার রেদওয়ানের ছেলে ও স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ফাহিম (১০), প্রতিবেশি আবদুর রাজ্জাকের ছেলে ও প্রথম শ্রেণির ছাত্র রাকিব (৯) এবং হেলালের ছেলে ও প্রথম শ্রেণির ছাত্র রিয়াদুল (৯)।
বগুড়া নারুলী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর তারিকুল ইসলাম জানান, নারুলী দক্ষিণপাড়ার শিশু ফাহিম, রাকিব ও রিয়াদুল একসঙ্গে স্কুলে যাতায়াত ও খেলাধুলা করে। বাড়ির কাছে রেলপথ দিয়ে প্রতিদিন বেশ কয়েকটি ট্রেন চলাচল করে। তারা বাস টেম্পু ও রিকশা-ভ্যানে উঠেছে। কিন্তু কখনও ট্রেনে ভ্রমণ করেনি। তাই ওই তিন শিশু বাড়িতে কাউকে না জানিয়ে ট্রেন ভ্রমণের পরিকল্পনা করে। বুধবার সকালে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে ওই শিশুরা নিজ নিজ বাড়ি থেকে বের হয়। এসময় তাদের কাছে বাবা-মার দেওয়া পকেট খরচের টাকা ছিল। এরপর তারা সিএনজি চালিত অটো রিকশায় গাবতলী উপজেলা সদরে যায়। সেখান থেকে হেঁটে গাবতলী রেল স্টেশনে যায় তারা। এরপর ট্রেনের উঠে গাইবান্ধা স্টেশনে পৌঁছলে তারা সেখানে নেমে পড়ে। ফিরতি ট্রেনে সন্ধ্যায় গাবতলী স্টেশনে ফিরে আসে।
এদিকে, ওই শিশুদের স্বজনরা তাদের তিন সন্তানকে না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু কোথাও তাদের সন্ধান মেলেনি। সকলে ভাবছিলেন, তাদের অপহরণ করা হয়েছে। দিশেহারা অভিভাবকরা বুধবার রাত ৮টার দিকে সদর থানায় পৃথক জিডি করেন।
অন্যদিকে, বুধবার সন্ধ্যায় ওই শিশুদের এক প্রতিবেশি গাবতলী থেকে সিএনজি অটো রিকশায় নারুলী দক্ষিণপাড়ার বাড়িতে ফিরছিলেন। তিনি ও তার সঙ্গে থাকা ছেলে গাবতলী রেলঘুমটির কাছে ফাহিম, রাকিব ও রিয়াদুলকে দেখতে পেয়ে ডাক দেয়। তখন ওরা তিনজন দৌড়ে পালিয়ে যায়। বাড়িতে ফিরলে তারা তিনজনের নিখোঁজ হওয়ার কথা শোনেন। পরে তারা অভিভাবকদের কাছে তাদের (শিশুদের) অবস্থান সম্পর্কে জানান।
ইন্সপেক্টর তারিকুল ইসলাম আরো জানান, খবর পাওয়ার পরপর তিনি রেলঘুমটি এলাকায় যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, তিন শিশু ওই এলাকায় ঘোরাফেরা করার সময় এলাকাবাসীরা তাদের একটি স্কুলের কাছে নিয়ে বসে রাখেন। তারা অভিভাবকদের খবর দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সেখান থেকে তিন শিশুকে উদ্ধার করে সদর থানায় আনা হয়। রাত ১০টার দিকে থানা থেকে তাদের বাবা-মার হাতে তুলে দেওয়া হয়।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদ হোসেন জানান, এরা মূলত ট্রেনে ভ্রমণের জন্যই বাড়ি থেকে কাউকে না জানিয়ে বের হয়েছিল।








