স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও নওগাঁর ২৭টি বধ্যভূমি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে অযত্নে আর অবহেলায় নিশ্চিহ্ন হচ্ছে এসব বধ্যভূমি। স্মৃতিফলক ও সীমানা প্রাচীর না থাকায় সারা বছরই এসব বধ্যভূমি ও গণকবর ঝোপঝাড়ে ভরে থাকে।
২০১৭ সালে প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধের কিশোর ইতিহাস নওগাঁ জেলা বইয়ের লেখক আইয়ুব হোসেন নওগাঁয় ৩০টি বধ্যভূমির কথা উল্লেখ করেছেন। তবে স্থানীয় সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন একুশে পরিষদ নওগাঁ ৩৯টি বধ্যভূমির কথা জানিয়েছে।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিট ও একুশে পরিষদ নওগাঁ সূত্রে জানা যায়, নওগাঁর ৩৯টি বধ্যভূমির মধ্যে ১২টিতে স্মৃতিফলক আছে। এই ১২টি বধ্যভূমি হলো- সদর উপজেলার দোগাছি ও ফতেপুর, আত্রাইয়ের বান্দাইখাড়া ও শিংসাড়া, রাণীনগরের আতাইকুলা, মান্দার পাকুড়িয়া ও মনোহরপুর, হাদেবপুরের
বাজিতপুর, পত্নীতলার হালিমনগর, ধামইরহাটের কুলফতপুর, বদলগাছীর গয়েশপুর ও পাহাড়পুর।
১৯৭১ সালের ২২ এপ্রিল সদর উপজেলার ধামকুড়ি গ্রামে প্রথম গণহত্যা সংঘটিত হয়। সেদিন তৎকালীন পুলিশ ইন্সপেক্টর সামসুল উদ্দিন সরদারসহ বাঙালি মুক্তিকামী ১০ জন শহীদ হন। পরে গ্রামের লোকজন সামসুল উদ্দিনের বাড়ির পাশে একই কবরে দু-তিনটি করে লাশ রেখে শহীদদের সমাহিত করেন।
অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে থাকা বধ্যভূমিগুলো হচ্ছে- সদর উপজেলার ধামকুড়ি, মোহনপুর, পার বোয়ালিয়ার খাগরকুড়ি, বলিহার, আরজী নওগাঁ, হাট নওগাঁ, খাস নওগাঁ ও পার নওগাঁ, আত্রাইয়ের মিরাপুর, বৈঠাখালী, পাইকড়া, আহসানগঞ্জ, বাউল্লাপাড়া, গোয়ালবাড়ী ও তাড়াটিয়া, মান্দার কবুলপুর ও কীত্তলী, নিয়ামতপুরের ভাবিচা, পোরশার শিশাহাট, পত্নীতলার নির্মইল, ধামইরহাটের ফার্সিপাড়া ও পাগলা দেওয়ান, বদলগাছীর গয়েশপুর, ডাঙ্গিসারা, চক বোয়ালি, কোলাহাট, মহাদেবপুরের মহিষবাথান।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নওগাঁ জেলা ইউনিটের কমান্ডার হারুন আল রশিদ বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় নওগাঁয় ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। নওগাঁতে প্রায় অর্ধশত বধ্যভূমি রয়েছে। যার মধ্যে ২৭টি বধ্যভূমি এখনও অরক্ষিত রয়েছে।’ তিনি বধ্যভূমি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার সবার কাছে আহবান জানান।
নওগাঁর স্থানীয় সামাজিক সংগঠন একুশে পরিষদের সভাপতি ডি.এম.আব্দুল বারী বলেন, ‘একুশে পরিষদ নওগাঁ পক্ষ থেকে বধ্যভূমি সংরক্ষনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এখনও ২৭টি বধ্যভূমি অরক্ষিত রয়ে গেছে।’ বধ্যভূমি সংরক্ষণে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান আব্দুল বারী।








