বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা সদরে শ্মশান ঘাঁটিতে পাক-হানাদার বাহিনীর নৃশংসতার শিকার চার শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্মরণে গত ৪৬ বছরেও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়নি। ১৯৯৬ সালে স্থাপিত ভিত্তিপ্রস্তর ফলক থেকে শহীদদের নাম মুছে গেছে। স্থানীয় স্বাধীনতার স্বপক্ষের জনগণ শহীদদের স্মৃতি রক্ষায় বিজয়ের মাসেই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ কাজ শুরুর দাবি জানিয়েছেন।
মুক্তিযোদ্ধারা জানান, বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে দেশের অন্যান্য এলাকার মত বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ৫ শতাধিক তরুণ-যুবক সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন। দীর্ঘ ৯ মাস পাক হানাদার ও তাদের স্থানীয় দোসর রাজাকারদের সঙ্গে সম্মুখ এবং গেরিয়া যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ উপজেলায় ২৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন এবং অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। হানাদারদের হাতে আদমদীঘির কোমারপুর গ্রামের আবদুল জলিল আকন্দ, চকসোনার গ্রামের আলতাফ হোসেন, কাঞ্চনপুর গ্রামের মনসুরুল হক টুলু ও আব্দুস ছাত্তার আটক হন। তাদের শরীরে খেঁজুর গাছের কাঁটা ফুটিয়ে ও রাইফেলের বাট দিয়ে ৪ দিন প্রকাশ্যে নির্যাতন করা হয়। ১৯৭১ সালের ১১ নভেম্বর দিনের বেলা তাদের আদমদীঘির খাড়ির সেতু সংলগ্ন শ্মশান ঘাঁটিতে নিয়ে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করা হয়। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য আজও প্রত্যক্ষদর্শীদের স্মৃতিতে নাড়া দেয়। স্বাধীনতার পর মুক্তিযোদ্ধারা ঘটনাস্থলে ওই চার শহীদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি করেন। ১৯৯৬ সালে উপজেলা পরিষদ থেকে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর ফলক স্থাপন করা হয়। অযত্ন ও অবহেলায় স্মৃতি ফলকটি থেকে শহীদর নাম মুছে গেছে। দীর্ঘ ৪৬ বছরে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়নি।
আদমদীঘি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল হামিদ, ডেপুটি কমান্ডার আবির উদ্দিন, সহকারী কমান্ডার সোলায়মান আলী, মজিবর রহমান বলেন, সরকার বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন করলেও অবহেলিত ও অরক্ষিত রয়েছে এই ৪ বীর শহীদের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কাজ। অবিলম্বে এখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হোক।








