রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় এক দম্পতির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে পাকুড়িয়া গ্রামে বাড়ির পাশে একটি লিচু গাছ থেকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় স্বামী আবদুল মান্নানের (৪৫) লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে গভীর রাতে গৃহবধূ কাজলী বেগমের (৩৫) চিৎকার শুনে ঘরের ভেতর অচেতন অবস্থায় পায় স্বজনরা। এ সময় ঘরে ওই গৃহবধূর স্বামীকে পাওয়া যায়নি। তাৎক্ষণিক কাজলী বেগমকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পরে বেলা ১১টার দিকে পুলিশ এসে লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল হাসান জানান, বুধবার রাতে ওই দম্পতি একসঙ্গে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত ২টার দিকে পরিবারের সদস্যরা কাজলী বেগমের চিৎকার শুনতে পান। এ সময় গৃহবধূর ছোট ছেলে ও তার দাদি ঘরে গিয়ে কাজলীকে অচেতন অবস্থায় পান। তাকে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এরপর ওই নারীর লাশ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু রাতে স্বামী আবদুল মান্নানকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে সকালে স্থানীয়রা বাড়ির পাশে একটি গাছে তার লাশ ঝুলতে দেখেন। এরপর খবর পেয়ে পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধার করে।
ওসি আরও বলেন, ওই দম্পতির মধ্যে কোনও কলহ ছিল না বলে জানা গেছে। কাজলী বেগমের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তাই তাকে হত্যা করা হয়েছে কিনা নিশ্চিত না। ময়নাতদন্তের পর বিষয়টি জানা যাবে। তবে আবদুল মান্নান আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হবে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জানা গেছে, বিয়ের আগে থেকেই তারা স্বামী-স্ত্রী ফরিদপুরের মাহাতাব চাঁনের ভক্ত ছিলেন। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। বড় ছেলে কলেজছাত্র রিশন আহম্মেদ লালপুরে নানার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করেন। ছোট ছেলে সাব্বির হোসেন কালিদাসখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।
সাব্বির হোসেন জানায়, মায়ের চিৎকারে সে ও তার দাদি ঘরে যায়। এ সময় মাকে অচেতন অবস্থায় ঘরের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে। তাৎক্ষণিকভাবে মাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বড় ছেলে রিশন আহম্মেদ বলেন, ‘আমার দাদা রয়েজ উদ্দিন ৩৮ দিন আগে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। তার কুলখানী অনুষ্ঠান শুক্রবার (১৫ ডিসেম্বর)। ইতিমধ্যে তিন শতাধিক মানুষকে দাওয়াত করা হয়েছে। হাতে টাকা নেই। এই নিয়ে বাবা-মায়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। আমার ধারণা, এর জেরে মাকে প্রথমে বাবা শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে নিজেই গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেন।’
বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা.আসাদুজ্জামান জানান, রাতে ওই গৃহবধূকে হাসপাতালে আনা হয়। কিন্তু হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়। লাশের শরীরে আঘাতের কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি।








