স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্রে উল্লেখিত বগুড়ার রেলওয়ে স্টেশনের এসডিও বাংলোতে টর্চারসেল ও বধ্যভূমির অনুসন্ধানে খনন কাজ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে এ খনন কাজ শুরু হয়। বিকাল পর্যন্ত প্রায় ১০ ফুট খনন করা হয়েছে।
জানা গেছে, স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র ছাড়াও ১৯৭২ সালে ইতিহাস অনুসন্ধানী লেখক ভবেশ রায়ের লেখা ‘বাংলাদেশে গণহত্যার প্রামাণ্য দলিল’ বইটিতে বগুড়া রেলওয়ে স্টেশনের এই এসডিও বাংলোকে বলা হয়েছে টর্চার সেল। যেখানে সাড়ে চারশ থেকে পাঁচশ জনকে নির্যাতন করে হত্যার কথা উল্লেখ আছে। ১৯৭২ সালের ২ ও ২০ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত দশীন জমাদারের ভাষ্য অনুসারে, বগুড়া স্টেশনের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত এসডিও বাংলোটি ছিল পাকিস্তানি হানাদারদের টর্চার সেল। এছাড়া ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র অষ্টম খণ্ডে একই তথ্য মেলে। বগুড়া জেলায় সরকারিভাবে চিহ্নিত ২৭টি বধ্যভূমির মধ্যে সবচেয়ে বড়টিতে ৪০ জনকে হত্যার কথা বলা হয়েছে। তাই এসডিও বাংলোটি চিহ্নিত হলে এটি হবে সবচেয়ে বড় বধ্যভূমি।
জেলা প্রশাসক নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, খনন শেষে প্রাপ্ততথ্যের ভিত্তিতে প্রমাণ মিললে এটি জেলার সবচেয়ে বড় বধ্যভূমি হিসেবে সংরক্ষণ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
খনন কাজ উদ্বোধনকালে জেলা প্রশাসক ছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ্ব মমতাজ উদ্দিন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. মকবুল হোসেন, পৌর মেয়র একেএম মাহবুবুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আব্দুস সামাদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আলীমুন রাজীব, অভিনেতা ও পরিচালক কায়সার চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা ডা. আরশাদ সাঈদ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রুহুল আমিন বাবলু, আব্দুল কাদের, জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ খান রনি, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।








