বগুড়ার কাহালুর মহেশপুর পশ্চিমপাড়ার রাস্তা থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহি এক দম্পতি ও সৎ ভাইকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) রাতে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। এ ব্যাপারে ডিবি পুলিশের এসআই আলমগীর কাহালু থানায় মামলা করেছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জুলহাস মঙ্গলবার বিকালে তাদের আদালতে হাজির করে পাঁচ দিন করে রিমান্ড চেয়েছেন। এ খবর পাঠানো পর্যন্ত রিমান্ড মঞ্জুর হয়নি।
চলতি মাসে ডিবি পুলিশ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ৩০ হাজার ৪৩৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৭০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে।
গ্রেফতার মাদক ব্যবসায়ীরা হলো- বগুড়া সদরের শশীবদনী পূর্বপাড়ার আবদুস সাত্তারের ছেলে শহিদুল ইসলাম (২৭), তার স্ত্রী মুক্তা বেগম খুকি (২২) ও সৎ ভাই কামরুল হাসান (১৯)।
মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আসাদুজ্জামান জানান, আসামিরা মাদক ব্যবসায়ী। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কক্সবাজার ভ্রমণের নামে কৌশলে ইয়াবা সংগ্রহ করে। এরপর বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে আসছিল। বিষয়টি ডিবি পুলিশের নজরে এলে ওই পরিবারের সদস্যদের পর্যবেক্ষণে রাখা এবং তাদের গতিবিধি মনিটর করা হয়। গত সোমবার আসামিরা কক্সবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়ে বগুড়ায় আসে। পুলিশের গতিবিধি টের পেয়ে তারা কাহালু এলাকায় আত্মগোপন করে। ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর নুর-এ-আলম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে একদল ফোর্স সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কাহালু উপজেলার মহেশপুর পশ্চিমপাড়ায় রাস্তার ওপর থেকে মাদক ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম, তার স্ত্রী খুকি ও ভাই কামরুলকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছে ২০ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। এ সময় অন্য মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের বহনকারী মাইক্রোবাস নিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, মাদক নির্মূলে তারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। বগুড়া থেকে মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত মাদক ব্যবসায়ী, সরবরাহকারী ও সেবীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। ডিবি পুলিশ চলতি ডিসেম্বরে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৩০ হাজার ৪৩৫ পিস ইয়াবা ও ৭০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। এ ব্যাপারে ৩০ মামলায় ৪৩ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ডিসেম্বর ২ হাজার ৩০০ পিস ইয়াবাসহ ১৮ মামলার আসামি ১৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সহ-সভাপতি ব্রাজিল ও সিরাজুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ২৩ ডিসেম্বর ২ হাজার পিস ইয়াবাসহ একজনকে, ২১ ডিসেম্বর ১ হাজার পিস ইয়াবাসহ একজনকে, ১০ ডিসেম্বর ৫০০ পিস ইয়াবাসহ দুই জনকে এবং ৩ ডিসেম্বর ৫০০ পিস ইয়াবাসহ একজনকে গ্রেফতার করা হয়। এসব অভিযানে গ্রেফতার মাদক ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এ অঞ্চলে মাদকের মূল সরবরাহকারী চক্রের সন্ধান পাওয়া যায়। সোমবার রাতে কাহালুতে অভিযান চালিয়ে ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের সুপারের ধারণা, বগুড়ায় আরও দুই-একজন বড় মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে। তাদের গ্রেফতারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।








