মাঘের শীতে নাকি বাঘে খায়। যদিও মাঘ মাস এখনও আসেনি, পৌষের শীতেই এ অবস্থা এখন। শেষ পৌষের শীতে কাবু দেশ, বিশেষ করে উত্তরের জনপদ। শীতে কাঁপছে বগুড়াও। প্রতিদিনই একটু একটু করে কমছে তাপমাত্রা। সোমবার (৮ জানুয়ারি) বগুড়ার তাপমাত্রা ছিল ৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
মৌসুমের শুরুতে তেমন শীত অনুভূত না হলেও গত কয়েকদিনের মৃদু শৈত্যপ্রবাহে শীত বাড়ছে। ফলে সমস্যায় পড়েছেন ছিন্নমূল লোকজন। তীব্র শীতে স্টেশন, ফুটপাত ও বিভিন্ন খোলা স্থানে আশ্রয় নেওয়া ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। শীতের কারণে শহরের সাতমাথায় ফুটপাত ও হকার্সসহ বিভিন্ন মার্কেটে শীতবস্ত্র বিক্রির হিড়িক পড়েছে।
বেলা পড়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা পড়তে শুরু করে এবং তাপমাত্রা কমতে থাকে। রাতে ও সকালে সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে।
গাড়িচালক হোসেন আলী বলেন, ‘শীতের তীব্রতা খুব বেড়েছে। কুয়াশা থাকায় রংপুর-বগুড়া মহাসড়কে সকালেও গাড়ি চালাতে সমস্যা হচ্ছে। বাধ্য হয়ে ফগ ও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছি। কুয়াশার কারণে ধীরে চলাচল করতে গিয়ে সময় মতো গন্তব্যে পৌঁছানো যাচ্ছে না।' একই মন্তব্য করেছেন ট্রাকচালক আহমেদ আলী।
স্টেশনে আশ্রয় নেওয়া ভিক্ষুক আসালত (৫৫) জানান, গত কয়েক বছরের মধ্যে এবার শীত বেশি। তিনি দিনভর ভিক্ষা করে রাতে স্টেশনের ফুটপাতে ঘুমান। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনও শীতবস্ত্র না পাওয়ায় অনেক কষ্টে আছেন। রবিবার সন্ধ্যার আগে স্টেশন রোডে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করতে দেখা গেছে।
বগুড়া আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া জানান, গত ৩-৪ দিন ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছে। রবিবার সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন ৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। বিকাল ৩টায় সর্বোচ্চ ১৩.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
তিনি বলেন, সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কাছাকাছি থাকায় বগুড়ায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে। তবে কতদিন এ শৈত্যপ্রবাহ থাকবে সে ব্যাপারে তিনি কোনও মন্তব্য করতে পারেননি।








