আধিপত্য বিস্তার ও র্যাগিং নিয়ে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ছাত্রলীগের সভাপতির অনুসারীদের মারধর করেছে সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা। মঙ্গলবার রাত ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত দফায় দফায় হামিদ হলের মূল ফটক তালাবদ্ধ করে এ মারধরের ঘটনা ঘটে। এসময় রুয়েট ছাত্রলীগ সভাপতি নাঈম রহমান নিবিড়ের অনুসারী ১১ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে আট জনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মাথায় আঘাত পাওয়ায় তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
গুরুতর আহত আটজন হলেন, রুয়েট ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রুপম ও বাপ্পী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদি মোহাম্মদ তানজীম, দফতর সম্পাদক সাব্বির, তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক রাহাত, সহ-সম্পাদক যাওয়াদ, সদস্য পিয়াল ও কর্মী জোহান। তারা সবাই হামিদ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মারধরকারী রুয়েট ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আবিদ হাসান মিতুল ও অনিক বিশ্বাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিয়াম মালিক, প্রচার সম্পাদক মাহাথির ও কর্মী স্বাক্ষরসহ ১০-১২ জন। তারা সবাই রুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মাহফুজুর রহমান তপুর অনুসারী।
রুয়েট ছাত্রলীগ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগ দিয়েছিলেন বিভাগের ১৪ সিরিজের শিক্ষার্থী ও রুয়েট ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক সাদি মোহাম্মদ তানজীম ও তার বন্ধুরা। নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন ছিলেন রুয়েট ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আবিদ হাসান মিতুলের ছোটভাই। বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার রাতে সাদির সঙ্গে কথা বলতে যান আবিদ হাসানসহ ছাত্রলীগ নেতারা। এসময় হামিদ হলের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। পরে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মারধর শুরু হলে রুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতি নিবিড় ও সাধারণ সম্পাদক তপু ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তবে নেতাকর্মীরা তাদের সামনেই রড, চাপাতি, রামদা, বাঁশ নিয়ে মারামারি করেন।
এসময় নেতাকর্মীদের মধ্যে তারা প্রাথমিক মীমাংসা করে দিলেও তারা হল থেকে বের হবার পর পুনরায় দ্বিতীয় দফা মারধর করেন তারা। এসময় গুরুতর আহত হন সভাপতির অনুসারীরা। রাত ১টা পর্যন্ত এ উত্তেজনা চললে পরে রুয়েট ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
তবে র্যাগিং নিয়ে মারধরের কথা অস্বীকার করেন ছাত্রলীগ সভাপতি নিবিড় ও সম্পাদক তপু। রুয়েট ছাত্রলীগ সভাপতি নাঈম রহমান নিবিড় বলেন, ‘সাধারণ সম্পাদকের নেতাকর্মীরা ইচ্ছাকৃতভাবে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে। সম্পাদকের উপস্থিতিতে ও তার মদতেই এ ঘটনা ঘটেছে। আমরা ঠিক জানি না কী কারণে তারা হামলা করেছে। মারধরের সময় তারা আমাদের নেতাকর্মীদের মোবাইল, মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। বিষয়টি আমরা প্রশাসন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ও মহানগর আওয়ামী লীগকে জানিয়েছে।’
তবে সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মাহফুজুর রহমান তপু বলেন, ‘আসলে মারধর করা ও আহতদের অধিকাংশই ১৪ সিরিজের শিক্ষার্থী। তাদের নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি নিয়ে মারামারি করেছে। আমি ও সভাপতি ঘটনা শুনেই হলে গিয়েছিলাম। প্রাথমিক মীমাংসা করার পরও তারা আবার মারামারি করেছে। কিন্তু র্যাগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেনি।’
হলের ঘটনার বিষয়ে হামিদ হলের সহকারী প্রাধ্যক্ষ মামুন-অর-রশিদ বলেন, ‘আমরা ঘটনা শুনেছি। আজ (বুধবার) রুয়েটের শিক্ষক সমিতির নির্বাচন চলছে। একারণে আমরা একটু ব্যস্ত। তবে বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই আলোচনায় বসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
নগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মাহবুব আলম জানান, ‘রাতে যখন দুইপক্ষের মারামারি হয় তখন ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন। আমরা বারবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও হল প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাদের উত্তর পাইনি। পরে পুলিশ নিজেরাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’








