কিশোরী ধর্ষণ মামলায় তুফানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক চার্জশিট

বগুড়া প্রতিনিধি
০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৪:৩১আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৫:৩১

তুফান সরকার, ফাইল ছবি বগুড়ায় এক কিশোরীকে ধর্ষণ এবং মাসহ তাকে নির্যাতনের মামলায় তুফান বাহিনীর ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার ওসি (অপারেশন) আবুল কালাম আজাদ সোমবার (৫ জানুয়ারি)  আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন।

চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন, শহর শ্রমিক লীগের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক তুফান সরকার, তার স্ত্রী তাসমিন রহমান আশা, শ্যালিকা পৌর কাউন্সিলর মারজিয়া হাসান রুমকি, শাশুড়ি লাভলী রহমান রুমি, সহযোগী মেহেদী হাসান রূপম, আতিকুর রহমান আতিক, মো. মুন্না, আলী আজাদ দিপু, এমারত আলম খান জিতু এবং  সামিউল হক শিমুল (পলাতক)। তুফানের শ্বশুর জামিলুর রহমান রুনু ও নাপিত জীবন রবিদাসের বিরুদ্ধে প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

সম্পূরক চার্জশিটে চিকিৎসক, আসামি এবং ভিকটিমের জবানবন্দি রেকর্ডকারী ম্যাজিস্ট্রেটদের নাম যোগ করা হয়েছে।

গত বছর ১০ অক্টোবর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রথম চার্জশিট দাখিল করা হয়েছিল। এতে সাক্ষী হিসেবে ম্যাজিস্ট্রেটদের নাম বাদ পড়েছিল।

সোমবার বগুড়ার শিশু আদালতে তুফান সরকার, আশা, মেহেদী হাসান রূপম, মার্জিয়া হাসান রুমকি, আতিক, মুন্না, দিপু ও জিতুকে হাজির করা হয়। এছাড়া জামিনে থাকা লাভলী রহমান রুমি, জীবন রবিদাস ও জামিলুর রহমান রুনু আদালতে হাজিরা দেন।

নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরীর মা গত বছরের ২৯ জুলাই সদর থানায় মামলা করেন। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, তুফান তার মেয়েকে কলেজে ভর্তি করে দেওয়ার নামে গত বছরের ১৭ জুলাই সকাল ৮টার দিকে তার চকসুত্রাপুরের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে তুফান তাকে ধর্ষণ করে। মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় এবং পরিবার নিয়ে দ্রুত অন্যত্র চলে যেতে বলে। বিষয়টি তুফানের সহযোগী আতিকের মাধ্যমে জানতে পেরে তার স্ত্রী আশা ক্ষুব্ধ হয়। সে স্বামীর অপরাধ ঢাকতে তার বোন বগুড়া পৌরসভার ২ নম্বর সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর রুমকি ও মা রুমির সঙ্গে পরামর্শ করে। এরপর দুই বোন ও মা গত ২৮ জুলাই দুপুরে তুফান বাহিনীর সদস্য মুন্না, আতিক, দিপু, রুপম, শিমুল ও অন্যদের মাধ্যমে নামাজগড় বেগম বাজার লেনের ভাড়া বাড়ি থেকে মাসহ ওই কিশোরীকে রুমকির বাদুড়তলার বাড়িতে নিয়ে আসে। সেখানে মা ও মেয়েকে নির্যাতন এবং মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। এসময় আশা ও রুমকির নির্দেশে তুফান বাহিনীর সদস্যরা তরুণীর শ্লীলতাহানি করে। শেষে নাপিত জীবন রবিদাসকে ডেকে এনে মা ও মেয়ের মাথা ন্যাড়া করে দেয়। নির্যাতনের পুরো দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও করে। এরপর দ্রুত এলাকা ছাড়তে নির্দেশ দেয়। পরে প্রতিবেশী এক ব্যক্তি মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হয়।

২৯ জুলাই মামলা দায়েরের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ বেশিরভাগ আসামিকে গ্রেফতার করে। এরপর তুফানকে শ্রমিক লীগ এবং তার বড় ভাই মতিন সরকারকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

 

 

/এসটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিএসইসি’র নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান, নিয়োগ পেলেন তিন কমিশনার
বিএসইসি’র নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান, নিয়োগ পেলেন তিন কমিশনার
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের বিজয়ে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের বিজয়ে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন
ইরানে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল: খামেনি
ইরানে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল: খামেনি
ডেঙ্গুর চরম ঝুঁকিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ২৭টি ওয়ার্ড
ডেঙ্গুর চরম ঝুঁকিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ২৭টি ওয়ার্ড
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের