দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো রবিবার রাতে রাজশাহীতেও ঝড়-বৃষ্টি হয়। ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টিতে আমের মুকুল, আলু ও গমের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষীরা। তবে কৃষিবিদরা বলছেন, এই ঝড়-বৃষ্টিতে ক্ষতি না হয়ে লাভই হয়েছে। আর কোথাও পানি না জমায় ফসলের ক্ষতিরও কোনও আশঙ্কা নেই।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম জানান, রবিবার দিনগত রাত ১১টা ৪০ মিনিটে রাজশাহী ও এর আশপাশের এলাকায় বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এর সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় বজ্রসহ ঝড়। ঝড়ো বাতাস আর বৃষ্টি থামে রাত সাড়ে ৩টায়।
এই কর্মকর্তা আরও জানান, রাতে তারা ১২ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছেন। ঝড়ের সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৪১ কিলোমিটার। তিন মিনিট স্থায়ী ছিল বাতাসের এই গতি। বাকি সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২২ কিলোমিটার। ফেব্রুয়ারির শেষে এই বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস আবহাওয়া অধিদফতর আগেই দিয়েছিল।
ঝড় ও বৃষ্টিতে আমের মুকুল, আলু ও গমের ক্ষতির আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন চাষিরা। তবে রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক দেব দুলাল ঢালি বলেছেন, ‘কিছু কিছু গমের চারা নুয়ে পড়তে পারে। তবে এই বৃষ্টিতে কোথাও পানি জমেনি। তাই অন্য কোনও ফসলের ক্ষতি হবে না।’
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মঞ্জুরুল হক বলেন, ‘সোমবার বিকালে পর্যন্ত আমরা মাঠ পর্যায়ে খোঁজ-খবর নিয়েছি, আমের মুকুলের কোনও ক্ষতি হয়নি। কারণ আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে কেবল। প্রথম দিকের মুকুলে গুটি হয় না। তাই কিছুটা মুকুল ঝড়ে পড়ে গেলেও ক্ষতি হবে না, বরং আমের ফলনের সাইজ খুব ভালো হবে। এছাড়া সোমবার দিনের বেলায় সূর্যের আলো পর্যাপ্ত ছিল। তাই পোকামকড়ের ভয় নেই। সেই সঙ্গে পাতাগুলো বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে পরিষ্কার হয়ে সূর্যোলোকের মাধ্যমে মুকুলের খাদ্য সংগ্রহে সুবিধা হবে। আবার অনেক চাষি আমের গাছে সেচ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাদের আর সেচও দিতে হবে না। তবে ঝড়-বৃষ্টি যদি আরও হতেই থাকে থাকলে আমের মুকুলের ক্ষতি হবে।’
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার মোট ১৭ হাজার ৪২০ হেক্টর জমিতে ৮৪ লাখ ৩৭ হাজার ৪৭৪টি আম গাছে ৮০ শতাংশ আমের মুকুল এসেছে।
তানোর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের চেয়ে এবার আমের উৎপাদন ভালো হবে বলে আশা করা হচ্ছে। উপজেলার ৩৬০ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। আম গাছের পরিমাণ ৫৪ হাজার। গত বছর আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৯ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। এবারে এ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ না করলেও যে হারে মুকুল দেখা যাচ্ছে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গতবারের চেয়ে দিগুণ আম উৎপাদন হবে।
তানোর মু-মালা পৌর এলাকার আম চাষি মোজ্জাম্মেল হক বলেন, ‘গাছে গাছে প্রচুর মুকুল বের হয়েছিল। কিন্তু আমের মুকুল এই ঝড়-বৃষ্টিতে অনেকটা পড়ে গেছে। তাই ক্ষতির আশঙ্কা করছি।’
তানোর উপজেলার কৃষি অফিসার শফিকুল ইসলাম জানান, এবারে আমের মুকুল অন্য বছরে চেয়ে অনেক ভালো। যদি আবহাওয়ার কোনও প্রতিকূল অবস্থা না হয় তাহলে ভালো ফলন হবে।
দুর্গাপুর উপজেলার হোজা গ্রামের শরিফুল ইসলাম জানান, তার পুকুরের পাড়ে প্রায় ১২০০ কলা গাছ ছিল। প্রতিটি কলা গাছে কলা ধরেছিল। রবিবার রাতের ঝড়ে প্রচুর কলা গাছ ভেঙে পড়েছে।








