বগুড়ার শেরপুরে এক তরুণীকে অপহরণের পর আটকে রেখে ধর্ষণের মামলায় দুই জনকে যাবজ্জীবন ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন। অপহরণ ও সহায়তার অপরাধে এই দুই জনসহ আরও দুই নারীকে ১৪ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও ওই দুই নারীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানার করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও ৩ মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় সারোয়ার হোসেন নামে এক জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। বুধবার বিকালে বগুড়ার দ্বিতীয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবদুর রহিমের আদালত এ রায় দেন। বৃহস্পতিবার আদালতের স্পেশাল পিপি আশেকুর রহমান সুজন রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
গণধর্ষণের অপরাধে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, বগুড়ার শেরপুর উপজেলার জামাইল গ্রামের আজিমুদ্দিন খা’র ছেলে দুলাল মিয়া ও কাহালু উপজেলার পানদীঘি গ্রামের মৃত ইব্রাহিমের ছেলে চাঁন মিয়া। এছাড়াও অপহরণে সহায়তায় অভিযোগে দণ্ডিতরা হলেন, শেরপুরের জামাইল গ্রামের মন্টু মিয়ার স্ত্রী লিলি খাতুন ও সাজু মিয়ার স্ত্রী আরজিনা বিবি।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, বগুড়ার শেরপুরের জামাইল গ্রামের ওই তরুণী গত ২০০৬ সালের ৩ মে বেলা ১১টার দিকে বাড়ি থেকে স্থানীয় বাজারে যাচ্ছিল। পথে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার কথা বলে লিপি খাতুন ও আরজিনা বিবি সহযোগিতায় অন্য দুই আসামি তাকে অপহরণ করে। তাকে আটকে রেখে ধর্ষণের পর চট্টগ্রামে পাচারের চেষ্টা করে। পাচারের জন্য ওই বছরের ১৭ মে তাকে শেরপুর বাসস্ট্যান্ডে নেওয়া হলে তরুণী চিৎকার শুরু করে। তখন পথচারীরা তরুণীকে উদ্ধার করে ও আসামিদের আটক করে পুলিশে দেন। ভিকটিমের বাবা শেরপুর থানায় পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আতাউর রহমান আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। আসামিরা সবাই জামিনে মুক্ত ছিল। রায় ঘোষণার পর তাদের বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন আদালতের স্পেশাল পিপি আশেকুর রহমান সুজন ও এপিপি চন্দনা রানী মিলি। আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক মামলাটি পরিচালনা করেন।
আরও পড়ুন: বগুড়ায় ১০ হাজার ইয়াবাসহ নারী মাদক বিক্রেতা গ্রেফতার







