গাড়িচালক দিয়ে পাঠানো উপজেলা নিবার্হী অফিসারের (ইউএনও) উপহার ফেরত পাঠিয়েছেন জয়পুরহাটের মুক্তিযোদ্ধারা। একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে ইউএনও’র আয়োজন করা প্রীতিভোজও প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন তারা। সোমবার জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার অস্থায়ী অফিসে দায়সারা ভাবে উপহার পাঠানোয় ৫৭ জন মুক্তিযোদ্ধা তাদের পুরস্কার ফেরত পাঠান।
সোমবার জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর ইউএনও মুক্তিযোদ্ধা নেতাদের অফিসে ডেকে নিয়ে ওই ঘটনার জন্য ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করলে বিষয়টি মীমাংসা হয়।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপনে বরাবরের মত এবারও ক্ষেতলাল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। প্রতিবছর অনুষ্ঠানের একটি পর্বে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে বিশেষ পুরস্কার ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু এবার ঘটে ব্যতিক্রম। মঞ্চে শুধুমাত্র ফুল দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত করে গাড়িচালককে দিয়ে ইউএনও জেবুন নাহার মুক্তিযোদ্ধাদের অস্থায়ী অফিসে ৫৭টি মেলামাইনের প্লেট পৌঁছে দেন। সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধারা পুরস্কারের প্লেটগুলি ইউএনও অফিসে ফেরত দিয়ে প্রীতিভোজেও অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেন।
পরে ইউএনও জেবুন নাহার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোফাজ্জল হোসেনসহ ৮-১০ জন মুক্তিযোদ্ধাকে ডেকে নিয়ে অফিসে সভা করেন। সভায় ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে প্রীতিভোজে অংশ নেওয়ার জন্য ইউএনও জেবুন নাহার মুক্তিযোদ্ধাদের অনুরোধ করলে তারা প্রীতিভোজে অংশ নেন। এ ছাড়া যথাযথ সম্মানের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার করেন ইউএনও।
ক্ষেতলাল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহকারী কমান্ডার মুজিবুর রহমান বলেন, ‘ইউএনও যদি মঞ্চে অতিথিদের সামনে উপহার মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে তুলে দিতেন তাহলে আমাদের কিছু বলার ছিল না। কিন্তু তিনি তার গাড়িচালকের মাধ্যমে পুরস্কার পাঠিয়ে আমাদের অপমান করেছেন। আমরা তা প্রত্যাখ্যান করেছি। পরে জেনেছি আমাদের ইউনিট কমান্ডার মোফাজ্জল হোসেনসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার কাছে ভুল স্বীকার ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি।’
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোফাজ্জল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা জেলা প্রশাসনের অনুরোধে ইউএনও’র সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে বিষয়টির মীমাংসা করা হয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জেবুন নাহার বলেন, ‘স্থানীয় একটি মহলের উস্কানিতে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মানিত করার জন্য নয়, এটা ভুল বোঝাবুঝি। পরে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির মীমাংসা করা হয়েছে।’








