১৫ বছর পর রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার শিলমাড়িয়া ও ভালুকগাছী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ মার্চ)। এই দুইটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মোট ২৩টি কেন্দ্রে ভোট চলছে। এর মধ্যে ১০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ, ৪টিকে কম ঝুঁকিপূর্ণ, ৯টিকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
জানা গেছে, পুঠিয়া উপজেলার ভালুকগাছি ইউনিয়নে সীমানা জটিলতার কারণে এর আগে দুইবার তফসিল ঘোষণা হলেও ভোট গ্রহণের কয়েকদিন আগে বন্ধ হয়ে যায়। প্রথম দফায় ইউনিয়নটিতে ভোট গ্রহণের ৫ দিন আগে নির্বাচন স্থগিত চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের জহির নামের এক ব্যক্তি। দ্বিতীয় দফায় একই ব্যক্তি ভোট গ্রহণের ২৪ দিন আগে নির্বাচন স্থগিত চেয়ে ফের উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করলে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। সর্বশেষ ২০০৩ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর মামলার কারণে ১৫ বছর ধরে নির্বাচন স্থগিত ছিল। মামলার জটিলতা কাটিয়ে সর্বশেষ ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (২৯ মার্চ) পুঠিয়া উপজেলার শিলমাড়িয়া ও ভালুকগাছী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে।
পুঠিয়ার ভালুকগাছি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ছয় জন, সদস্য পদে ৪২ জন, সংরক্ষিত পদে ১৩ জন প্রতিদন্দ্বিতা করছেন। চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত তাকবির হাসান, বিএনপি মনোনীত তৌহিদুল ইসলাম। বিএনপির বিদ্রোহী নাজমুল গনি পিন্টু ঘোড়া), শাহজাহান আলী (আনারস), জামায়াত সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মঞ্জুর রহমান (চশমা), আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাইনুল ইসলাম তোতা (মোটরসাইকেল) তিনি প্রার্থীতা প্রত্যাহার করলেও নির্ধারিত সময়ে পরে করায় ব্যালটে তার নাম থাকছে। এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সুবিধাজনক অবস্থানে আছে।
শিলমাড়িয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন মুকুল, বিএনপি প্রার্থী আসাদুজ্জামান আবু হায়াত, ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী আজাহারুল ইসলাম। সদস্য পদে ৪৬ জন এবং সংরক্ষিত সদস্য পদে ১০জন অংশ নিচ্ছেন ভোটের লড়াইয়ে।
পুঠিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলার শিলমাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় ১১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৫টি, কম ঝুঁকিপূর্ণ ১টি ও সাধারণ ৫টি কেন্দ্র রয়েছে। তফশিল অনুযায়ী গত মঙ্গলবার রাতে প্রার্থীদের প্রচারণা শেষ হয়েছে।
অপরদিকে ভালুকগাছী ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় ১২টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৫টি, কম ঝুঁকিপূর্ণ ৩টি ও সাধারণ ৪টি কেন্দ্র রয়েছে।
পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সায়েদুর রহমান জানান, ‘ভোটকেন্দ্র এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব, বিভিন্ন গোয়েন্দা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ টহল ফোর্স থাকবে। এছাড়া আমরা সব সময় তৎপর থাকবো।’
পুঠিয়া উপজেলা নির্বাচন ও রির্টানিং অফিসার জয়নুল আবেদীন জানান, ‘ইতোমধ্যে ভোট গ্রহণের সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আর ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ প্রশাসনের নজরদারি বেশি থাকবে।








