বছর তিনেক আগে শাহীন আকন্দের বাবা মারা যান। সংসারে হাল ধরেন বড় ভাই শামীম আকন্দ। তিনি একটি মুদি দোকান চালাতেন। ছোট ভাই শাহীন আকন্দ লেখাপাড়া করে সংসারের হাল ধরবেন, সেই প্রত্যাশাই ছিল। কিন্তু, তা আর হলো না। পরপারে চলে গেলেন শাহীন আকন্দ।
ময়মনসিংহের ভালুকায় ২৪ মার্চ রাতে বিস্ফোরণে তিনি দগ্ধ হন। ২৮ মার্চ (বুধবার) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে গ্রামের বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়েছে।
শাহীন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ছাত্র ছিলেন।
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা থেকে ৮ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তরে খাস-সাতবাড়িয়া গ্রামে শাহীনের বাড়ি। ঘটনার পরদিন ওই গ্রামে সরেজমিনে গেলে তার ছোট বোন শাহীনুর খাতুন ও প্রতিবেশীরা জানান, শাহীন ছোটবেলা থেকে অত্যন্ত মেধাবী। তার বাবা নুরুজ্জামান বছর তিনেক আগে মারা গেছেন। শাহীন দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। গ্রামের বাড়ির পাশে বড় ভাই শামীমের একটি মুদি দোকান রয়েছে। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বড় ভাই। বাবা মারা যাওয়ার পর তিনি সংসার চালাচ্ছেন। শাহীনের এক বোনের বিয়ে হয়েছে। মা, ভাই ও ছোট বোন গ্রামেই থাকেন। খাস সাতবাড়িয়া গ্রামের স্কুল থেকে এসএসসি ও ঢাকার উত্তরা মডেল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে খুলনা ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন শাহীন। টেক্সটাইল বিভাগে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শেষ বর্ষের ছাত্র শাহীন সহপাঠীদের সঙ্গে ভালুকায় একটি গার্মেন্ট কারখানায় ইন্টার্নশিপ করতে যান তিনি। ছাত্র অবস্থায় টিউশনি করে নিজের লেখাপড়ার খরচ জোগাতেন শাহীন।
তার মায়ের নাম সাথিয়া বেগম।
২৪ মার্চ রাতে ময়মনসিংহের ভালুকার জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ি এলাকার আর এস টাওয়ার নামের ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলায় বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে শাহীনসহ তার তিন সহপাঠী দগ্ধ হন। তারা সবাই খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) বস্ত্র প্রকৌশল বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। একটি টেক্সটাইল মিলে ইন্টার্ন করতে ভালুকায় এসে গত ১০ মার্চ তারা ওই বাসা এক মাসের জন্য ভাড়া নিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন:
ভালুকায় বিস্ফোরণে দগ্ধ আরেক শিক্ষার্থীর মৃত্যু
ভালুকায় বিস্ফোরণের ঘটনায় ঢামেকে চিকিৎসাধীন এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু








