পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে পহেলা বৈশাখকে বরণ করতে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। ইউনিয়নের সব মেয়ে, তাদের স্বামী ও সন্তানসহ ৩৩ হাজার অতিথিকে নিমন্ত্রণ জানানো হয়। পুরো অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করতে আয়োজন করা হয় বাঙালির হারিয়ে যাওয়া বিভিন্ন খেলাধুলা ও গানের আসরের।
জামাই-মেয়ে বরণ অনুষ্ঠানের প্রধান উদ্যোক্তা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আ ন ম শওকত হাবিব তালুকদার লজিক। দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনের প্রথম উদ্যোগ হলো ইউনিয়নের প্রতিটি মেয়ে-জামাই ও তাদের সন্তানদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা। এরই মধ্যে ইউনিয়নের ১৬ হাজার ৮০৩ জন মেয়ে জামাইসহ ৩৩ হাজার ২০৮ জনকে নিমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। যাদের মধ্যে অধিকাংশই শুক্রবার বিকেলে উপস্থিতি নিশ্চিত করেন। আর তাদের আনন্দ দিতে শুক্রবার বিকাল থেকেই মাত্রাই বাজারে আয়োজন করা হয় জারি, কবি ও বাউল গান, ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, লাঠি খেলা, সাপ খেলা, বদন খেলা ও বায়োস্কোপের। নতুন প্রজন্মের অনেকেই বাঙালির হারিয়ে যাওয়া এসব আয়োজন দেখে মুগ্ধ হন।
শনিবার সকালে মঙ্গল শোভাযাত্রা, পান্তা ভাত খাওয়ার আয়োজন, গামছা দিয়ে নতুন জামাই বরণ অনুষ্ঠিত হয়। বিকালে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠান। যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস।
নিমন্ত্রণ পেয়ে উপজেলার বিয়ালা গ্রাম থেকে অনুষ্ঠানে এসেছেন প্রবীণ সৈয়দ আলী। তিনি জানান, মাত্রাই ইউনিয়নের জামাই হিসেবে তিনি নিমন্ত্রণ পেয়ে খুব খুশি। এ ধরনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এমন উদ্যোগ মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ দূর করবে।’
স্থানীয় সমশিরা গ্রামের মেয়ে রাবেয়া বেগম বলেন, ‘প্রায় দশ বছর আগে উপজেলার বোরাই গ্রামে আমার বিয়ে হয়েছে। সংসারের নানা ব্যস্ততার কারণে বাবার বাড়ি খুব একটা আসা হয় না। পহেলা বৈশাখের নিমন্ত্রণ পেয়ে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে এসেছি নববর্ষকে বরণ করার জন্য। গ্রামের অনেক বোনেরা আছে, যাদের সঙ্গে দেখা হয় না। এই আয়োজনের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় বেশ ভালো লাগছে।’
একই অনুভূতি ব্যক্ত করেন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বরট গ্রাম থেকে আসা জামাই ছায়েদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর পহেলা বৈশাখের নিমন্ত্রণে আমি শ্বশুরবাড়ি এসেছি।’
অনুষ্ঠানের আয়োজক ও মাত্রাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ ন ম শওকত হাবিব তালুকদার লজিক বলেন, ‘বাঙালি সংস্কৃতির চর্চা না থাকায় মানুষ ক্রমান্বয়ে আত্মকেন্দ্রিক ও স্বার্থপর হয়ে পড়ছে। মানুষের এই বিচ্ছিন্নতা, স্বার্থবাদিতা ও আত্মকেন্দ্রিকতা অবসান করার লক্ষ্যে আমরা এই আয়োজন করছি। মাত্রাই ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে প্রতি বছর এই ইউনিয়নের যত জামাই মেয়ে আছে তাদের সবাইকে আমরা নিমন্ত্রণ করি। একসঙ্গে সবাই বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য লালন করার চেষ্টা করি। আমাদের ইচ্ছে আছে প্রতি বছর এই আয়োজন চালানো। আমি বিশ্বাস করি, এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাড়ি বাড়ি বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে, সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় হবে এবং মানুষের মধ্যে সম্পর্ক আরও বৃদ্ধি পাবে।’








