রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম দিন রবিবার তার মনোনয়নপত্র অবৈধ বলে ঘোষণা করেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার সৈয়দ আমিরুল ইসলাম।
যে প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে তার নাম মুরাদ মোর্শেদ। তিনি গণসংহতি আন্দোলনের রাজশাহী জেলার আহ্বায়ক। এই নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া মোট ছয়জন প্রার্থীর মধ্যে কেবল তিনিই স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। অবশ্য গণসংহতি আন্দোলন তাকে সমর্থন দিয়েছিল।
গত ২২ জুন রাজশাহীতে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে সংগঠনটির প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি মেয়র প্রার্থী হিসেবে আইনজীবী মুরাদ মোর্শেদকে সমর্থন দেন। পরে গত বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমা দেন মুরাদ মোর্শেদ। নাগরিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতিমুক্ত ও নাগরিকবান্ধব সিটি করপোরেশন গড়ে তোলার স্লোগানে তিনি মাঠে নামেন।
রাজশাহী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান জানান, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম দিন নগরীর এক থেকে ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই সম্পন্ন হয়েছে। যাচাই-বাছাই হয়েছে ছয় মেয়র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রও। তবে শুধু স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মুরাদ মোর্শেদের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মেয়র পদে মনোনয়নপত্রে ৩০০ জন ভোটারের সমর্থন লাগে। সে সমর্থনে মুরাদ মোর্শেদের এক সমর্থকের স্বাক্ষরে গড়মিল পাওয়া যায়। এজন্য মুরাদ মোর্শেদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। তবে আমাদের কাছ থেকে সত্যায়িত কপি নিয়ে আগামী তিনদিনের মধ্যে তিনি বিভাগীয় কমিশনার বরাবর আপিল করতে পারবেন।
এ ব্যাপারে মুরাদ মোর্শেদ বলেন, আপিল করার জন্য সত্যায়িত কপি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। এরপর প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আপিল করবো।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর সোমবার বিকাল ৫টার পর বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। আগামী ৯ জুলাই পর্যন্ত প্রার্থীরা তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন। পরদিন বরাদ্দ করা হবে প্রতীক। এরপর প্রচারে নামবেন প্রার্থীরা। ভোট গ্রহণ করা হবে ৩০ জুলাই। রাসিক নির্বাচনে মোট ভোটার তিন লাখ ১৮ হাজার ১৩৮ জন। এই সিটিতে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৫৬ হাজার ৮৫ জন। নারী ভোটার এক লাখ ৬২ হাজার ৫৩ জন। পুরুষ ভোটারের চেয়ে পাচঁ হাজার ৯৬৮ জন নারী ভোটার বেশি। ৩০টি ওয়ার্ডে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র ১৩৭টি। কেন্দ্রের কক্ষ ১ হাজার ২২টি।








