ছাত্রলীগের হামলায় আহত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে। রবিবার (৮ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে তরিকুলকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন তার স্বজন ও বন্ধুরা। এর আগে রাজশাহী নগরীর রয়্যাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তরিকুল।
তরিকুলের তত্ত্বাবধায়নকারী চিকিৎসক ডা. সাইদ আহম্মদ বাবু বলেন, ‘তরিকুলের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না। তার পা ও কোমরের হাড় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার পায়ে অস্ত্রোপচার করতে হবে। এজন্য তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।’
তরিকুলের সঙ্গে থাকা সহপাঠীরা জানান, শনিবার (৭ জুলাই) রাতে চিকিৎসক সাইদ তরিকুলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তারপর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে রবিবার সকালে ঢাকায় রওনা দেওয়া হয়েছে।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের রাবি শাখার আহ্বায়ক মাসুদ মোন্নাফ বলেন, ‘চিকিৎসকরা তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু আমরা এখনও ঠিক করিনি তাকে কোথায় ভর্তি করা হবে। ঢাকায় পৌঁছার পর আমরা সেটা ঠিক করবো।’
তরিকুলের বোন ফাতিমা খাতুন বলেন, ‘রাজশাহীতে তরিকুলের চিকিৎসার জন্য প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার টাকা করে খরচ হয়েছে। কিন্তু ঢাকায় নেওয়ার পর খরচ আরও বেড়ে যাবে। আমার বাবা একজন কৃষক। এতো টাকা কোথায় পাবো সেটাই চিন্তা করছি।’
গত ২ জুলাই বিকালে কোটা সংস্কার অন্দোলনকারীরা পতাকা মিছিল বের করলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হন। এরমধ্যে তরিকুলকে একা পেয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা রামদা, হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে তাকে পেটায়। এতে তার ডান পায়ের হাঁটুর নিচের দুটি হাড় ভেঙে যায়। এছাড়া মাথায় গুরুতর জখম হয়। ওইদিন বিকালে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার (৫ জুলাই) বিকালে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। পরে তার বড় ভাই তৌহিদুল ও সহপাঠীরা মিলে তাকে রয়্যাল হাসপাতালে নিয়ে আসেন।








