রাজশাহীতে ৫৮ জন কাউন্সিলর প্রার্থী ফৌজদারি মামলার আসামি

রাজশাহী প্রতিনিধি
১১ জুলাই ২০১৮, ০৩:৪৭আপডেট : ১১ জুলাই ২০১৮, ০৩:৪৯

রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচন পিস্তল, গুলি আর ১২ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটকের পর বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে বন্দি জহিরুল। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ মোট মামলা ৬টি। তারপরও তিনি ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী। শুধু এক জহিরুল ইসলামই নন, তার মতো ৫৮ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর বিরুদ্ধেই আছে হত্যা, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের ফৌজদারি মামলা। এর বাইরেও মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন এমন কাউন্সিলর প্রার্থীর সংখ্যা ১৫ জন। নির্বাচন অফিসে দাখিল করা প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

যাচাই-বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সাধারণ কাউন্সিলর পদে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ১৬০ জন। এসব প্রার্থীরা রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তাদের অধিকাংশই স্বশিক্ষিত। উচ্চশিক্ষিত প্রার্থী এখানে হাতেগোনা। তবে প্রার্থীদের বড় পরিচয় হচ্ছে তারা বেশিরভাগই ব্যবসায়ী। আরও সুনির্দিষ্ট করে বললে বলা যায়, এদের বড় অংশই ঠিকাদার। হলফনামায় দেখা গেছে— প্রার্থীদের মধ্যে স্কুলে যাননি কিন্তু স্বাক্ষর করতে পারেন, এমন প্রার্থী ৩৫ জন। পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণি পেরিয়েছে ৩৩ জন। এইচএসসি ৩৬ আর এসএসসি পাস ১৯ জন।

প্রার্থীদের হলফনামার এই চিত্র বিশ্লেষণ করে স্থানীয় নির্বাচন বিশ্লেষকদের অভিমত, রাজনৈতিক উদ্যোগ না থাকায় অর্ধশিক্ষিত ব্যবসায়ীদের হাতে বন্দি স্থানীয় নেতৃত্ব। সেখানে ভোটাররা অনেকটাই অসহায়। স্থানীয় নির্বাচন বিশ্লেষকরা মনে করেন, কম শিক্ষা বেশি অর্থ এমন ব্যক্তিতে ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয় নেতৃত্ব। না ভোটের বিধান রহিত হওয়ায় ভোটারদের প্রার্থী গ্রহণে যোগ্যতা বিশ্লেষণের সুযোগ থাকছে না বলেও অভিমত তাদের।

সুজন রাজশাহীর আঞ্চলিক সমন্বয়কারী সুব্রত কুমার পাল বলেন, ‘দুই বছরের কম সাজা হলে তিনিও নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন। কিংবা যাদের বিরুদ্ধে বিচারাধীন মামলা রয়েছে তাদেরও প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু বিষয়টা এখানে না। বিষয়টা হচ্ছে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকলে নাগরিক সেবাটা ভালো পাওয়া যায়। আর অসৎ কিংবা অপরাধী প্রার্থী নির্বাচিত হলে সেই সুযোগটা থাকে না।’

সুব্রত কুমার পাল বলেন, ‘‘আরও একটা বিষয় হচ্ছে ‘না’ ভোট তুলে দেওয়ার কারণে ভোটারদের সেই সুযোগও থাকে না। ফলে অপেক্ষাকৃত মন্দের ভালো হিসেবে প্রার্থীদের তারা নির্বাচিত করেন।’’

 

 

/এনআই/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম