পদ্মা নদীতে বিলীন হলো বাঘায় চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়

রাজশাহী প্রতিনিধি
১৩ আগস্ট ২০১৮, ১৭:৪৩আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০১৮, ১৭:৪৩

পদ্মা নদীর ভাঙনের শিকার বাঘার চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়টি

পদ্মার ভাঙন দেখে এক সপ্তাহ আগেই অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটি ঘোষণা করে বাঘার চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়টি। এরপরও প্রিয় প্রতিষ্ঠানের টানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রত্যেক দিন ছুটে সেখানে আসতো। সেই সঙ্গে এক কিলোমিটার দূরে কালিদাস এলাকার একটি জায়গায় চেয়ার ও বেঞ্চসহ আসবাপত্র স্থানান্তর প্রক্রিয়া চলছিল। এরমধ্যে রবিবার বেলা ১২টার দিকে পদ্মায় বিলিন হয়ে যায় ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবনটি।

জানা গেছে, বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়টি এক সপ্তাহ আগেও ভাঙন থেকে ৩০ মিটার দূরে ছিল। বিদ্যালয়টি সরিয়ে নিতে নিতেই নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। পাশাপাশি চকরাজাপুর বাজারসহ এলাকায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে শতাধিক পরিবারের বাড়ি-ঘর পদ্মায়বিলিন হয়ে গেছে। বাঘার পদ্মার চরে দুটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এরমধ্যে চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও পলাশি ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়। চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬১৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া নিয়ে চিন্তায় রয়েছে।

চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী জনি সরদার, আবু দাউদ, সাহাদত হোসেন, হাসিবুল ইসলাম, শাকিলা খাতুন জানান,তারো অনেক কষ্ট করে এই প্রতিষ্ঠানে পড়তে আসতো। তারা কখনও নৌকায়, কখনও আবার লক্ষীনগর চর থেকে হেঁটে স্কুলে আসতো।  তাদের প্রিঢ স্কুলের ভবনটি একে বারে নদীর গর্ভে চলে গেল।

চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুস সাত্তার বলেন, ‘আমরা ভাবতাম নদীর পানি কমলে বিদ্যালয়ের ভবনটি রক্ষা পাবে। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যালয়টি নদী গর্ভে চলে গেলো। আমরা আগে থেকে বিদ্যালয়ের সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলাম। চোখের সামনে বিদ্যালয় ভবনটি নদী গর্ভে চলে গেলো। গত ১৪ বছরে চকরাজাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও চকরাজাপুর বাজার দুইবার ভাঙনের কবলে পড়েছে।

চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আজিযুল আযম বলেন,‘গত তিন দশকে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার ও রাস্তা-ঘাটসহ হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি ভাঙনের কবলে পরে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বিভিন্ন সময় বসত ভিটা হারিয়ে সর্বহারা হয়েছে প্রায় সহস্রাধিক পরিবার।

নদী গর্ভে বিলিন বাঘার চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়টি

তিনি আরও বলেন,‘গত ২ ও ৬ আগস্ট উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বিদ্যালয়টি পরিদর্শন শেষে করেন। এসময় তিনি বিদ্যালয়টি অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেন। তারপর থেকেই মালামাল সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়। মালামাল নিতে নিতেই ১২ আগস্ট দুপুরে বিদ্যালয়টি নদী গর্ভে চলে গেল। ’

বাঘা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন,‘এরইমধ্যে চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে ভবনটি ভেঙে সরিয়ে নেওয়ার আগে তা সম্পূর্ণ নদীতে চলে গেছে।’

বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন,‘নদীর ভাঙন ও বিদ্যালয় পরিদর্শন পরিদর্শন করেছি। এখন অস্থায়ী ভিত্তিতে কালিদাস এলাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাকার্যক্রম পরিচারনা করা হবে।’

চকরাজাপুর এলাকার মোস্তাক আহম্মেদ শিকদার বলেন,‘পদ্মায় ক্রমাগত পানি বৃদ্ধিতে পাচ্ছে। ফলে গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মানুষ। এছাড়া ভাঙনের কবলে পড়েছে চকরাজাপুর ইউনিয়নের ১৫টি চরের মানুষ।’

২০১২ সালে ভাঙনের কবলে পড়ায় কালিদাশ খালি মৌজায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বিদ্যালয়টি। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে স্থানীয় প্রকৌশল অধিদফতর ৭৮ লাখ টাকা ব্যয় করে বিদ্যালয়ের পাঁকা ভবন নির্মাণ করে। ১৯৯৮ সালেও ভাঙনের কবলে পড়েছিল বিদ্যালয় ও বাজার। এবার তো ভাঙনের কবলে পড়ে  বিদ্যালয় ও বাজার বিলিন হয়ে গেল।

এ ব্যাপারে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘ওই এলাকাটি হচ্ছে পদ্মা নদীর অভ্যান্তরে। আমরা ওই এলাকাকে রক্ষা করার জন্য একটি প্রজেক্ট দাঁড় করিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা একনেকে পাস হয়নি। অনুমোদন হলে ড্রেজিং করে পানির গতিধারা অন্য দিকে প্রভাবিত করলে এলাকাটি রক্ষা পাবে। আশা করছি শিগগিরই অনুমোদন হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীও বেশ তৎপর রয়েছেন।

 

/জেবি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম