বগুড়ার ধুনটের ৩০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দফতরি কাম প্রহরি নিয়োগে অন্তত ৩ কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি মনোনীত নিয়োগ কমিটি প্রতি পদে ১০-১২ লাখ টাকা আদায় ও তাদের নিয়োগ দিতে গোপন তালিকা করেছে। শরিফুল ইসলাম নামে এক চাকরি প্রত্যাশী ঘুষের মাধ্যমে নিয়োগ বন্ধে নিয়োগ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছেন। এছাড়াও কয়েকটি বিদ্যালয়ের সভাপতি একই আবেদন করেছেন।
শরিফুল ইসলাম জানান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস গত ২৭ মার্চ এক বিজ্ঞপ্তিতে আউট সোর্সিং-এর মাধ্যমে ৩০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দফতরি কাম প্রহরি পদে দরখাস্ত আহ্বান করে। চাকরির আশায় তিনি গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আবেদন করেন। আনোয়ার হোসেন (৪০) নামে এক ব্যক্তি বয়স না থাকা সত্ত্বেও একই স্কুলে আবেদন করেন। তার প্রকৃত জন্ম তারিখ ১ আগস্ট ১৯৮৫ হলেও চাকরির আশায় তিনি ৩ দফা জন্ম তারিখ পরিবর্তন করেছেন। কারচুপির বিষয়টি শরিফুল ইসলাম টের পেয়ে আনোয়ার হোসেনের জন্ম সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করেন। ওই কাগজপত্রসহ ১৮ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। প্রতিকার না পেয়ে তিনি ৩০ আগস্ট আনোয়ারের প্রার্থিতা বাতিলের জন্য আবারও অভিযোগ দেন।
শরিফুলের অভিযোগ করেন, এলাকার এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির মনোনীত নিয়োগ কমিটি ১২ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে সরকারি চাকরির বয়স না থাকলেও আনোয়ার হোসেনকে নিয়োগ দেওয়ার পাঁয়তারা করছে। বাধ্য হয়ে তিনি (শরিফুল ইসলাম) নিয়োগ বন্ধে ২৩ সেপ্টেম্বর বগুড়া বার সমিতির আইনজীবী গোলাম ফারুকের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিগ্যাল নোটিশ দেন।
ওই নোটিশে বলা হয়েছে, আনোয়ার হোসেনের আবেদন বিধি অনুযায়ী বাতিল না করে অর্থের বিনিময়ে তাকে নিয়োগ প্রদানের চেষ্টা কেন অবৈধ হবে না। তা নোটিশ প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে জবাব দাখিল করতে বলা হলো। অন্যথায় আদালতে মামলা করা হবে।
এছাড়াও এ নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করতে রুদ্রবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি এসএম মতিউর রহমান, গোপালপুর খাদুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, নারায়ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আশরাফুল কবির, খোকশাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি নজরুল ইসলাম ও সরুগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ফিরোজুল ইসলাম ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর একজন জনপ্রতিনিধির মনোনীত নিয়োগ কমিটি কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য করছেন। ৩০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিশেষ প্রার্থীর কাছে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। তাদের নিয়োগ দিতে গোপন তালিকাও করা হয়েছে।
খোকশাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, তার বিদ্যালয়ের আবেদনকারী হালিম মিয়ার কাছে ৮ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। আর তাকেই গোপনে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
অভিযোগকারী আনোয়ার হোসেন ও মতিউর রহমান জানান, বিদ্যালয়ের সভাপতিরা নিয়োগে বোর্ডের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও ৩০ বিদ্যালয়ের সভাপতিদের অবজ্ঞা করা হয়েছে। আর টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হলে প্রকৃত মেধাবীরা সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত হবেন।
এ বিষয়ে জানতে নিয়োগ কমিটির সভাপতি ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সদস্য সচিব উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাদের পাওয়া যায়নি। তবে নিয়োগ কমিটির সভাপতি ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেছেন, এ ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, ‘উপরের নির্দেশে আগামী ১-৩ অক্টোবরের মধ্যে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হবে। নিয়োগ বাণিজ্যের কথা শুনেছি, তবে এর সঙ্গে তার কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই।’








