সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের প্রচারণা এখন তুঙ্গে। দেশের বিভিন্ন এলাকার মতোই চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর এলাকাসহ বিভিন্ন উপজেলাগুলোর পাড়া-মহল্লা ছেয়ে গেছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের পোস্টার, ব্যানার ও বিলবোর্ডে। এসবের মাধ্যমে প্রচারণা কাজ ঠিক মতো হলেও তা এলাকার সৌন্দর্যহানি ও স্থানীয়দের বিরক্তির কারণ হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহর, উপজেলা সদর, ইউনিয়ন, গ্রাম-গঞ্জের রাস্তাঘাট, গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন মোড়, গাছপালা, এমনকি বিদ্যুতের পোল সবখানেই ছেয়ে গেছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের পোস্টার-বিলবোর্ডে। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে এসব প্রচারণা। কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণে চেনা-অচেনা মনোনয়ন প্রত্যাশী অনেকেই এই পোস্টার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। পোস্টারে সরকারের বিভিন্ন সাফল্য ও কৃতিত্ব এমনকি বর্তমান এমপিরা বিগত পাঁচ বছরে তাদের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডও জনগণের সামনে তুলে ধরছেন। তারা পোস্টার প্রচারণার পাশাপাশি বিভিন্ন মোড় ,স্কুল-কলেজ ও রাস্তাঘাটের সামনে স্থাপন করেছেন ছোট-বড় বিভিন্ন বিলর্বোড।
এদিকে জেলা শহর, উপজেলা সদর ও গ্রামগঞ্জে পোস্টার লাগানোর কোনও নির্ধারিত জায়গা না থাকায় অনুমতি ছাড়াই যথেচ্ছ লাগানো হচ্ছে রাজনৈতিক প্রচারণা বিলবোর্ড। এসবের কারণে এখন বিরক্ত স্থানীয়রা। পোস্টার, ব্যানার, তোরণ ও বিলবোর্ডের এ জঞ্জালে জেলা শহর ও উপজেলা সদরের সৌন্দর্যহানি হলেও; এ নিয়ে মাথাব্যাথা নেই প্রশাসনের।
স্থানীয়রা বলছেন, সামনে নির্বাচন আসছে, তাই যততত্র ধুমধাম চলছে পোস্টার সাঁটানোর কাজ। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের লোকজন এসে যেখানে সেখানে পোস্টার, বিলবোর্ড লাগাচ্ছেন। নিয়ম-নীতির কোনও তোয়াক্কা না করেই এসব কাজ চলছে। অথচ এগুলো দেখার কেউ নেই।
নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের স্নাতক শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ফজলে রাব্বী বাপ্পী বলেন, ‘বেপরোয়া রাজনৈতিক প্রচারণার কারণে শহরের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। যেখানে-সেখানে পোস্টার-ব্যানার ও বিলবোর্ড লাগানোর বদলে নির্দিষ্ট জায়গায় তা লাগানো হলে শহরের সৌন্দর্য অন্তত নষ্ট হতো না।’
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, ‘নির্বাচনের সময় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের পোস্টার, ব্যানার, বিলবোর্ড সাঁটানোর ক্ষেত্রে অবশ্যই সরকারি আইন ও পৌর কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে প্রচারণা চালানো উচিত। এতে অন্তত বিশৃঙ্খল পরিবেশ ও সৌন্দর্যহানি এবং জনগণের বিরক্তির উদ্রেক হতো না।’
এদিকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের পক্ষে যারা প্রচারণা চালাচ্ছেন তাদের অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় ভোটাররা। তাদের অভিযোগ- জাতির জনকের ছবি ব্যবহার করে অনেক চিহ্নিত সমাজ বিরোধী এমনকি মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরাও প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ নিয়ে কারো কোনও মাথা ব্যাথা নেই। প্রশাসন ও দলীয় ঊর্ধ্বতন নেতারাও এক্ষেত্রে রয়েছেন নিষ্ক্রিয়।
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন- স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের পাশাপাশি আগামীতে নিজেদের অবৈধ আয়-ইনকামের পথকে সুগম করতেই এই প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এমন প্রচারণার বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আরিফুল হক বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার পরই এলাকায় প্রার্থীদের প্রচারণার বিলবোর্ড, ব্যানার, তোরণ ও পোস্টার অপসারণে প্রশাসনের সহায়তায় অভিযানে নামবে জেলা নির্বাচন কমিশন।’
জেলা শহরে যত্র-তত্র পোস্টার লাগানোর বিষয়টি নিয়ে বিব্রত জেলার বিভিন্ন এলাকার পৌর কর্তৃপক্ষও। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এসব পোস্টার সরিয়ে ফেলার জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে ৭২ ঘণ্টা সময় দিয়ে মাইকিং করা হয়। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। কেউ কেউ কিছু পোস্টার সরালেও; এখনও অনেক পোস্টার, বিলবোর্ড, ব্যানার রয়ে গেছে। তবে আশা করছি আগামীতে সকলের চেষ্টা ও সহযোগিতায় পোস্টারের এসব জঞ্জাল দূর করা হবে এবং শহরের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা হবে।’
নাচোল পৌর মেয়র আব্দুর রশিদ খান ঝালু বলেন, ‘শিগগিরই এসব পোস্টার অপসারণ করা হবে। আমরা আশা করছি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই পৌর এলাকার সব পোস্টার সরিয়ে ফেলা হবে।’
জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় পোস্টার বিড়ম্বনা সবচেয়ে বেশি। শিবগঞ্জ পৌর মেয়র কারিবুল হক রাজিন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা বিব্রত। এ বিষয়ে পৌরসভায় মিটিং করা হয়েছে। বেশ কিছুদিন মাইকিংও করা হয়েছে। বিভিন্ন বিদ্যালয় ও কলেজের প্রধানদের অবহিত করা হয়েছে; যাতে কেউ বিদ্যালয়, কলেজের সামনের দেয়ালে কোন পোস্টারিং না করে।’ সবার সহায়তায় নির্বাচনের আগেই পৌর এলাকার সব পোস্টার অপসারণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।








