সিরাজগঞ্জের তাড়াশে সাপের কামড়ে অন্তঃসত্ত্বা মা ও তার চার বছরের শিশু ছেলের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ অক্টোবর) রাতে ঘরের মেঝেতে শুয়ে থাকা অবস্থায় তাদেরকে সাপ কামড় দেয়।
নিহতরা হলেন- তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের মালশীন গ্রামের ইয়াসিন আলীর স্ত্রী রাবেয়া সুলতানা (২৫) ও তাদের শিশু ছেলে সিয়াম হোসেন (৪)।
জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে ঘরের মেঝেতে শুয়ে থাকা অবস্থায় সাপ কামড় দিলে তাদের চিৎকারে এগিয়ে আসেন গ্রামবাসী। পরে স্বজনরা ও গ্রামবাসী মিলে তাদের রাত ১টার দিকে তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে ‘অ্যান্টিভেনাম’ সরবরাহ না থাকায় তাদের সেখানে থেকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে রেফার্ড করা হলে পথিমধ্যে মা ও ছেলের মৃত্যু হয়।
মাধাইনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হাসান মির্জা বলেন, সাপে কাটার পর তাদের দ্রুত তাড়াশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দিয়ে তাদের অন্যত্র রেফার্ড করা হয়। পরে তাদের নিয়ে শজিমেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারা মারা যান।
তাড়াশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আসিফ মাহমুদ বলেন, মা ও ছেলেটি রাত ১টার সময় এ হাসপাতালে আসেন। বিষের যন্ত্রনায় তারা দুজনই কাঁতরাচ্ছিলেন। হাসপাতালে সাপে কাটা রোগীদের জীবন রক্ষাকারী ইনজেকশন অ্যান্টিভেনম সরবরাহ না থাকায় তাদের দ্রুত বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। তারাপরে চলেও যান। পথে তারা মারা গেছেন বলে পরে জেনেছি।
তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এহিয়া কামাল বলেন, কর্মশালায় যোগদান করতে আমি রাজশাহীতে এসেছি। বিষয়টি আমার এখনও জানা নেই। তাছাড়া উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে বিষাক্ত সাপে কাটা রোগীদের জীবন রক্ষাকারী ইনজেকশন অ্যান্টিভেনম কখনই সরবরাহ করা হয় না।
সিভিল সার্জন ডা. কাজী মো. শামীম হোসেন বলেন, ‘অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করলেই যে রোগী বেঁচে যাবে তা ঠিক নয়। অনেক ক্ষেত্রে তা হয় না। অনেক সময় বিষের মাত্রা বেশি হলে বা সারা শরীরে বিষ ছড়িয়ে পড়লে রোগীকে বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ে।








