পরিবেশ রক্ষায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘দেশের গাছ ও পরিবেশ রক্ষায় আমরা কাগজের ব্যবহার কমাতে চাই। আর সে কারণেই ব্যালটের পরিবর্তে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বাস্তবতা আমাদের ভোট গ্রহণের ক্ষেত্রে যান্ত্রিক পদ্ধতি বেছে নিতে বাধ্য করেছে। তাই অযথা ইভিএমের বিরোধীতা করবেন না। যদি এটি ব্যবহার না করার পক্ষে যুক্তিসঙ্গত কোনও ব্যাখ্যা থাকে তাহলে তা দেন।’
শনিবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় প্রাঙ্গণে শনিবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে দিনব্যাপী ইভিএম প্রদর্শন মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘একটি নির্বাচনে আপনারা কয়েকটা কাগজের ব্যালট পেপার দেখেন। আর আমরা নির্বাচন কমিশনে টন টন কাগজ দেখি। আপনারা বিশ্বাস করতে পারবেন না একটা নির্বাচনে এই কাগজের কাঁচামাল সংগ্রহের জন্য কত বন উজাড় করা হয়। আমরা দেশের গাছ শূন্য করতে চাই না। পরিবেশকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে ইভিএম মেশিন ব্যবহার করতে চাই। তাই ইভিএম নিয়ে আপনাদের কোনও অভিযোগ থাকলে আমাদের কাছে বলুন। না জেনে কথা কিংবা লেখালেখি করেবেন না।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘এর আগে অনেক জায়গায় সমস্যা দেখা দিয়েছিল। সেগুলো চিহ্নত করে সমাধান করে উন্নতমানের প্রযুক্তিসম্পন্ন ইভিএম মেশিন নিয়ে আসা হয়েছে। এই মেশিনে হ্যাক্ড করার সুযোগ নেই। তাই ভোট ডাকাতি বা ছিনতাই করার সম্ভাবনা নেই।
এই প্রদর্শন মেলায় কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিকে দেখা যায়নি। এ ব্যাপারে উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের ডেকেছিলাম। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে তারা থাকেননি। এখানে জোর করে কাউকে ধরে আনার ক্ষমতা আমাদের নেই। আমার কাছে রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর চেয়ে সবার আগে ভোটার। ভোটারের সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারলেই রাজনৈতিক দলের সন্তুষ্টি অর্জিত হবে বলে আমি মনে করি।’
এবারের জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করার পরিকল্পনা আছে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমাদের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি আছে। তবে সীমিত আকারে ইভিএম ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেবো। কারণ, আইনের প্রভিশন তৈরি করতে হবে। আর এই আইন নির্বাচন কমিশন করতে পারে না। করবে সংসদ সদস্য ও রাষ্ট্রপতি।’
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ইভিএম ব্যবহারের বিরোধিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নিবিন্ধত ৩৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ১২টি দল ইভিএম এর বিরোধিতা করেছে। তবে সিটিসহ অন্যান্য নির্বাচনে ইভিএম মেশিনে ওই দলগুলো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করেছে।’
জাতীয় নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার ব্যাপারে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এটি চাঁদের মতো। যদি উঠে ও ঘোষণা হয় সবাই জানতে পারবেন। কমিশনের পক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন।’
নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘দেশের বাস্তবতা তাদের যান্ত্রিক দিকে এগিয়ে যেতে বাধ্য করেছে। ইভিএম ব্যবহারে ভোটের ফল যেমন দ্রুত ঘোষণা করা যাবে, তেমনি এই মেশিন ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের স্বাচ্ছন্দ এনে দেবে। একজনের ভোট অন্যজন দেওয়ার কোনও সুযোগ পাবে না।’
রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাজনৈতিক দল, প্রার্থী এবং ভোটারদের কথা চিন্তা করে ইভিএমের ব্যবহার করা হবে। কিন্তু আপনারা যদি এটাকে গ্রহণযোগ্য না বলেন, তাহলে ব্যবহার করা হবে না। আপনারা পরীক্ষা করে দেখুন, ইভিএমের সঙ্গে ইন্টারনেট সংযুক্ত কি-না। যেহেতু ইন্টারনেটের সঙ্গে এটি সংযুক্ত নয়, তাই এটি হ্যাক করা যাবে না। আগে থেকে ভোট দিয়ে রাখার কোনও সুযোগ নেই। আপনারা কোনও ত্রুটি প্রমাণ করতে পারলে এটি প্রত্যাহার করা হবে।’ ইভিএম নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সত্যিকার অর্থে সুষ্ঠু ব্যবস্থাকেই আমরা আনতে চাই।’
রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আলমগীর কবিরের সভাপতিত্বে মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন— রাজশাহী বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার আমিনুল ইসলাম, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নিশারুল আরিফ, মহানগর পুলিশ কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মতিউর রহমান, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সৈয়দ আমিনুল ইসলাম ও জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা ইভিএম প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের চত্বরে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে ছয়টি বুথে ইভিএম মেশিনে ডেমো ভোট গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে সাধারণ মানুষ ও জনপ্রতিনিধিরা তাদের স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র ইভিএম মেশিনে ঢুকিয়ে এবং আঙুলের ছাপ দিয়ে ভোট দেওয়ার পদ্ধতি শেখেন।








