বগুড়ার সোনাতলায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ৮৫ বছরের বৃদ্ধ নছিমুদ্দিন প্রামাণিককে গলাকেটে হত্যার দায়ে ছেলে সামেদ আলী প্রামাণিককে (৪৫) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় মামলার অপর আসামি তিন সহোদরকে খালাস দেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুরে বগুড়ার তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. গোলাম ফারুক জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় দেন।
খালাসপ্রাপ্তরা হলো, সোনাতলা উপজেলার রংরারপাড়া গ্রামের ময়েন উদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে ও নিহত বৃদ্ধের ভাতিজা ঝলু মিয়া প্রামাণিক (৩৫), টুকু মিয়া প্রামাণিক (৫৫) এবং কাশেম প্রামাণিক (৫০)।
এজাহার সূত্র জানা যায়, সোনাতলা উপজেলার রংরারপাড়া গ্রামের মৃত মিয়াজানের ছেলে নছিমুদ্দিন প্রামাণিক স্ত্রী মোমেনা বেগমকে নিয়ে সাতবেকী আবাসন প্রকল্পের ১২ নম্বর ব্যারাকের ১০ নম্বর রুমে বসবাস করতেন। তাদের ছেলে সামেদ আলী প্রামাণিক ও অন্য তিন আসামির সঙ্গে জমি নিয়ে আত্মীয় সিরাজুল ইসলামের বিরোধ চলছিল। আসামিরা প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ২০১১ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে নিহতের স্ত্রী’র অনুপস্থিতির সুযোগে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আবাসন প্রকল্পের ব্যারাকে গিয়ে ঘুমন্ত নছিমুদ্দিন প্রামাণিককে ঘর থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরে পার্শ্ববর্তী সিরাজুলের ধানক্ষেতে নিয়ে হাত-পা বেঁধে গলাকেটে হত্যা করে। পরদিন সকালে সোনাতলা থানা পুলিশ রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। নিহতের অপর ছেলে মসরুর রহমান প্রামাণিক সোনাতলা থানায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মহিউদ্দিন হত্যায় জড়িত সন্দেহে নিহতের ছেলে সামেদ আলী প্রামাণিক ও তার তিন চাচাতো ভাই ঝুলু মিয়া, টুকু মিয়া এবং কাশেমকে গ্রেফতার করে। তাদের মধ্যে সামেদ আলী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দেয় এবং অপর আসামিদের নাম প্রকাশ করে। পরে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চারজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। অন্য তিন আসামি জামিনে থাকলেও সামেদ আলী জেলে ছিল।
বুধবার বিচারক দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য শেষে উল্লিখিত সাজা দেন। চার্জশিটে ও স্বীকারোক্তিতে নাম থাকার পরও তিন আসামি খালাস পাওয়া প্রসঙ্গে ওই আদালতের অতিরিক্ত পিপি পদ্ম কুমার দেব জানান, সাক্ষীদের অসহযোগিতার কারণে ওরা খালাস পেয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষে এপিপি বিনয় কুমার দাস বিষু ও আসামি পক্ষে অ্যাডভাকেট রেজাউল করিম মন্টু এবং আবদুস সালাম মামলা পরিচালনা করেন।








